বছরের পর বছর নিবেদিত গবেষণার মাধ্যমে চীনা বিজ্ঞানীদের একটি দল প্রাথমিক মানব -ভ্রূণ বিকাশকে নিয়ন্ত্রণকারী গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়াগুলিলো উন্মোচন করেছেন। এই আবিষ্কার জন্মগত ত্রুটিসহ , পুনরাবৃত্ত গর্ভাবস্থার ব্যর্থতা এবং অন্যান্য ভ্রূণ-বিকাশজনিত রোগব্যাধি প্রতিরোধে নতুন তাত্ত্বিক ভিত্তি ও সম্ভাব্য চিকিৎসা কৌশলের পথ খুলে দিয়েছে এ গবেষণা।
চীনা গবেষকরা জানান, ভ্রূণের বিকাশের ১৪ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে গ্যাস্ট্রুলেশন নামে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়। এই পর্যায়টিই ভবিষ্যৎ অঙ্গ গঠনের ভিত্তি তৈরি করে এবং অনেক বিকাশজনিত রোগ ঘটায়। নৈতিক সীমাবদ্ধতা ও নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করা যায়নি। তাই এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ব্ল্যাক বক্স’ হিসেবে পরিচিত ছিল।
এই যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ বুধবার চাইনিজ চীনা বিজ্ঞান একাডেমির- এসএসি গবেষক দলটিকে ২০২৫ সালের ‘আউটস্ট্যান্ডিং অসাধারণসায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অ্যাচিভমেন্ট’ অর্জন পুরস্কার প্রদান দেওয়াকরে হয়েছে।ছে।
মানব ভ্রূণ বিকাশশে একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে একটি মাত্র নিষিক্ত কোষ ধাপে ধাপে একটি পূর্ণাঙ্গ মানবদেহে রূপ নেয়। এই বিকাশে প্লাসেন্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।— ভ্রূণের জন্য এটি যেমন সুরক্ষা আবরণ, তেমনি পুষ্টি ও সহায়তার উৎস। তবে এতদিন পর্যন্ত প্রাথমিক মানব ভ্রূণ বিকাশ এবংও প্লাসেন্টার সহায়ক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ছিল সীমিত।
চীনা চীনের বিজ্ঞান একাডেমির প্রাণিবিদ্যা ইনস্টিটিউট-আইওজেড -এর গবেষকরা টানা ২৭ বছরের গবেষণার মাধ্যমে স্বাভাবিক মানব ভ্রূণের বিকাশের ধরণ ধরন পদ্ধতিগতভাবে ব্যাখ্যা করেছেনন। এর ভিত্তিতে তারা ইন -ভিট্রো পরিবেশে ভ্রূণের বিকাশ প্রক্রিয়া সফলভাবে অনুকরণ করেন এবং জন্মগত ত্রুটি ও পুনরাবৃত্ত গর্ভাবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে গবেষণার জন্য রোগ মডেল ও ওষুধ পরীক্ষার প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন।
আইওজেডের উপ-পরিচালক ওয়াং হংমেই জানান, মানব ভ্রূণের বিকাশের ১৪ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে গ্যাস্ট্রুলেশন নামে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়। এই পর্যায়েই ভবিষ্যৎ অঙ্গ গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় এবং অনেক বিকাশজনিত রোগের উৎপত্তি ঘটে। তবে নৈতিক সীমাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক মানব ভ্রূণ সংগ্রহের জটিলতার কারণে এই সময়কাল দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার বাইরে ছিল, যা বিজ্ঞানীদের কাছে একটি “ব্ল্যাক বক্স” হিসেবে পরিচিত।
মানুষের সঙ্গে জিনগত জেনেটিক ও শারীরবৃত্তীয় মিলেরল থাকার কারণে গবেষকরা সাইনোমলগাস ম্যাকাকুক বানরকে মডেল হিসেবে ব্যবহার করে আসছেনন। এর মাধ্যমে তারা প্রাথমিক থেকে শেষ পর্যায় পর্যন্ত ভ্রূণের বিকাশ পর্যবেক্ষণ করে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হন।
এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে গবেষকরা মানব ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশ পর্যায় গবেষণায়ে প্রবেশের কিছু প্রযুক্তিগত বাধা অতিক্রম করেন। স্থানিক ট্রান্সক্রিপ্টমিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তারা প্রথমবারের মতো প্রাথমিক মানব ভ্রূণের প্রতিটি কোষের ভেতর জিনের কার্যকারিতা তৈরিরন প্রকাশের একটি নির্ভুল স্প্যাসিও-টেম্পোরাল মানচিত্র তৈরি করেন। এরতে ফলে মানব ভ্রূণ বিকাশের একটি ত্রিমাত্রিক ডিজিটাল মডেলও তৈরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
গবেষক ও
পাশাপাশি ইঁদুর, ম্যাকাক ও মানব প্লাসেন্টার তুলনামূলক গবেষণার মাধ্যমে প্লাসেন্টা কীভাবে মাতৃ দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রূণের বিকাশে সহায়তা করে, সেই প্রক্রিয়াও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
গবেষক দলটি আরও একটি ইন ভিট্রো সিমুলেশন সিস্টেম তৈরি করেছে, যা প্রাকৃতিক মানব ভ্রূণের নমুনা সংকট ও নৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রোগ-সম্পর্কিত গবেষণাকে সম্ভব করেছে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা পুনরাবৃত্ত ইমপ্ল্যান্টেশন ব্যর্থতা-আরআইএফ রোগীদের ক্ষেত্রে ভ্রূণ সংযুক্তির সমস্যা সফলভাবে অনুকরণ করেন।
ওয়াং হংমেই জানান, সহায়তাপ্রাপ্ত প্রজনন চিকিৎসা গ্রহণকারী প্রায় ১৫ শতাংশ দম্পতি আরআইএফ সমস্যায় ভোগেন, যার কার্যকর চিকিৎসা এখনওনো সীমিত। এ গবেষণার অংশ হিসেবে ড্রাগ স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এমন কিছু সম্ভাব্য ওষুধ চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ভ্রূণ সংযুক্তির দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই সাফল্য ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

