জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। তাদের হালাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে চাই। আমরা যুবকদের বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে বসিয়ে দেব। আমরা বসব প্যাসেঞ্জার সিটে। গতকাল দুপুরে শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহ তায়ালার গোলামি যারা করে, তারা কালো মেঘ দেখলে ভয় পায় না। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে তুচ্ছ শান্তির জন্য হানাহানি হবে না। রাজনীতির নামে যদি মানুষ খুন হয়, সেই রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি। নির্বাচন নিয়ে যদি কেউ সন্ত্রাস চালাতে চায়, তাহলে আল্লাহর নাম নিয়ে সমপরিমাণ জবাব দেবেন। বেশি দেওয়ার দরকার নেই। তবে নিজে জবাব দেওয়ার আগে অবশ্যই প্রশাসনকে জানাবেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি মায়েদের অত্যন্ত সম্মান করি। আমার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মায়েদের নামে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য পোস্ট করা হয়েছে। একটা দল সেটি নিয়ে মিছিল শুরু করে দিয়েছে। অথচ ওরাই নারীদের শরীরে পর্যন্ত হাত দিচ্ছে। তিনি বলেন, ভুয়া হলেও কোনো মা কষ্ট পেয়ে থাকলে তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
জনসভায় মঞ্চে উঠেই ডা. শফিকুর রহমান জুলাইয়ে পুলিশের গুলিতে মুখ বিকৃত হওয়া নালিতাবাড়ীর খোকন চন্দ বর্মণকে বুকে জড়িয়ে নেন। এর আগে তিনি শ্রীবরদী উপজেলায় নিহত জামায়াতের নেতা রেজাউল করিমের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা এবং কবর জিয়ারত করেন। বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমির শেরপুরের তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
একই দিন জামালপুরে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বেকারদের কর্মসংস্থান, নারীদের স্বাবলম্বীসহ যেসব দাবি করা হয়েছে আমরা নির্বাচিত হলে সবই বাস্তবায়ন হবে। কথা দিচ্ছি, আপনাদের টাকা সব আপনাদের কাজে লাগবে। আমরা চুরি করব না, লুট করব না, ব্যাংক খালি করব না, শেয়ার মার্কেট লুণ্ঠন করব না, চাঁদা তুলব না, দুর্নীতি করতে দেব না। আপনাদের টাকা আপনাদের কল্যাণে ব্যয় হবে। ইনশাআল্লাহ আপনাদের দাবি তখন আপনাদের চোখের সামনে বাস্তবায়িত হবে।
তিনি বলেন, আপনাদের ভোটে যদি আমাদের ভাইয়েরা নির্বাচিত হয়, তবে আমাদের সংসদ সদস্যসহ তার পরিবারের সদস্যরা তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে বাধ্য থাকবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

