উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিব জসিম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলার মাধ্যমে ইরান সব ধরনের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আল-বুদাইউই বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে জাহাজ চলাচলে শুল্ক আরোপ করেছে, যা সমুদ্র আইন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন এবং আগ্রাসনের শামিল। এছাড়া কিছু জাহাজ অপহরণ ও হামলার শিকার হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর একটি ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’। তেহরানের হামলায় সৌদি আরব ও কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জিসিসি মহাসচিবের দাবি, ‘জিসিসিভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের ‘অর্থনৈতিক ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত। তারা প্রতিদিন ১৬ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ২২ শতাংশ। এই দেশগুলো বিশ্বে ২৭ শতাংশ তেল রফতনি করে; যার পরিমাণ দৈনিক ১১.৫ বিলিয়ন ব্যারেল।’
তিনি বলেন, এই হামলাগুলো কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে না বরং ইরান ও জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। তার অভিযোগ, ইরান পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাচ্ছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে তিনি জানান, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না এবং তাদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগও দেবে না।
আল-বুদাইউই বলেন, উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে জিসিসি দেশগুলো এতদিন সংযম দেখিয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অতীতেও আঞ্চলিক সংকটে তারা সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

