রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে তলিয়ে গেছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার পর উদ্ধার কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে বিবিসি বাংলাকে এসব তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে বাসটি ডুবে গেছে এবং ডুবে যাওয়ার পর ৫-৭ জন নাকি বাস থেকে বের হতে পেরেছেন।
তিনি জানান, বাসটি পদ্মায় ডুবে গেছে, এই খবর ফায়ার সার্ভিসের কাছে আসে ৫টা ২০ মিনিটে। এর ছয় মিনিটের মাথায় গোয়ালন্দ থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর আরিচা থেকে একটি দল সেখানে যোগ দেয়। সেই হিসেবে দুই ইউনিট মিলে আনুমানিক ১৫-২০ জনের একটি দল উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
এছাড়া, সিদ্দিকবাজার থেকে আরও দুইটি ডুবুরি ইউনিট এখন গোয়ালন্দ অভিমুখে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় পড়া বাসটি সৌহার্দ্য পরিবহনের। সেটি কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসে। এতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন সৌহার্দ্য পরিবহনের রাজবাড়ীর কাউন্টারের ম্যানেজার সিরাজ আহমেদ। তিনি বলেন, 'বাসটির চালক ও হেলপারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।'
এ পর্যন্ত উদ্ধার সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ অনেকে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।
দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় পদ্মায় পড়ে যায়। বাসটি যেখানে পড়ে সেখানে নদীর গভীরতা অনেক বেশি। ফেরিঘাটের কাছে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ডুবন্ত বাসটি উদ্ধার করা যায়নি।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসের যাত্রীদের উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা শুরু করেছে। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সংস্থা ও স্থানীয় ডুবুরি দল উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

