নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ককটেল বিস্ফোরণ, বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

সোমবার,

২৩ মার্চ ২০২৬,

৯ চৈত্র ১৪৩২

সোমবার,

২৩ মার্চ ২০২৬,

৯ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ককটেল বিস্ফোরণ, বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ২৩ মার্চ ২০২৬

Google News
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ককটেল বিস্ফোরণ, বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নির্বাচন পরবর্তীকালীন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অন্তত ২০টি বসতঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়।

একটি পক্ষের দাবি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করায় তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। আর অপরপক্ষের দাবি, বিএনপি পক্ষের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টি করছে।

এ ঘটনার পর এখন পুরুষশূন্য পুরো এলাকা। এখন পর্যন্ত ৬ জনকে আটকের কথা জানিয়েছেন পুলিশ। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুরের নড়িয়ার রাজনগর জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনের সাথে সংঘর্ষ তৈরি হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার বিকেলে বিএনপির পক্ষে কাজ করা হাফিজ ভূইয়ার ছেলে সাব্বিরকে মারধর করে জামায়াতের পক্ষে কাজ করা ছোরপান কাজীর ছেলে সোহেল কাজী ও তার লোকজন। সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ভোররাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষের লোকজন। এসময় অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। 

ভুক্তভোগী সারিকা বেগম বলেন, আমার স্বামী ও সন্তানেরা প্রবাসে থাকেন। আমরা নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করায় গতকাল জামায়াতের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে টাকা, স্বর্ণের জিনিস লুট করে নিয়ে যায়। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। 

আরেক ভুক্তভোগী চন্দ্রবান বেগম বলেন, আমি নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট ছিলাম। সেই কারণে সরদার বংশ ও বাবুল বেপারীরা হঠাৎ করেই আমার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে লুটপাট করেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বাবুল বেপারীর স্ত্রী ও সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য হাসিনা আক্তার বলেন, তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আমরা স্বামী একজন দলিল লেখক। তিনি মারামারির সময় ছিলেন না। তারা গতবার ঈদের আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছিলো। 

সোহেল কাজীর ভাইয়ের বউ শারমিন বেগম বলেন, হাফিজ ভূইয়ার একজন চাঁদাবাজ। তারা আগে থেকেই এলাকায় নাশকতা চালায়। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, নির্বাচন পরবর্তীকালীন দুইপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এই ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের