যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান

রোববার,

২২ মার্চ ২০২৬,

৭ চৈত্র ১৪৩২

রোববার,

২২ মার্চ ২০২৬,

৭ চৈত্র ১৪৩২

Radio Today News

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:২২, ২১ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২৩:২৫, ২১ মার্চ ২০২৬

Google News
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান

বিবিসির পাওয়া তথ্য বলছে, ইরান দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বোঝা যাচ্ছে যে, হামলাটি ব্যর্থ হয়েছে, এবং ব্রিটিশ ঘাঁটিসমূহ যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি হারে ব্যবহার করতে পারবে যুক্তরাজ্যের এমন ঘোষণার আগেই ওই হামলা সংঘটিত হয়েছিল।

তবে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠিক কখন ছোড়া হয়েছিল তা জানা যায়নি।

এদিকে, ইরান অভিযােগ করেছে যে তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রটি আবারও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যদিও তারা দাবি করছে, হামলায় কোনও ধরনের তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি এবং কেন্দ্রের আশপাশে বসবাসকারী বাসিন্দারা ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধ 'গুটিয়ে নেওয়ার' কথা ভাবছে বলে জানিয়েছিলেন, তারপরও পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে না যে তারা তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতে প্রস্তুত।

এদিকে, সামরিক অভিযানের ফলে যেন 'পরমাণবিক দুর্ঘটনা' ঝুঁকি তৈরি না হয় - সেজন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের পরমাণবিক সংস্থার প্রধান।

এর আগে ইরানের কিছু তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মূলতঃ ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে বিরূপ প্রভাব তৈরি হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতা জনাথন বেইল বলছেন, দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত ব্রিটিশ সার্বভৌম ঘাঁটির দিকে দুইটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর সঠিক বলে জানতে পেরেছে বিবিসি।

তবে, দুইটি ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটিই ঘাঁটিতে পৌঁছাতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারার খবরটি প্রকাশ করে।

বিবিসি পরে বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য ঘাঁটির দিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই অঞ্চলজুড়ে ইরানের এই বেপরোয়া হামলা 'ব্রিটিশ স্বার্থ এবং ব্রিটিশ মিত্রদের জন্য একটি হুমকি'।

এদিকে, যুক্তরাজ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দিয়েগো গার্সিয়া থেকে তাদের ভাষায় 'প্রতিরক্ষামূলক বোমাবর্ষণ অভিযান' পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে।

ভারত মহাসাগরের এই ব্রিটিশ সার্বভৌম ঘাঁটি থেকে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালিয়েছে কী-না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তবে, যুক্তরাষ্ট্র গ্লস্টারশায়ারের 'আরএএফ ফেয়ারফোর্ড' থেকে হামলা চালিয়েছে।

সাইপ্রাসের 'আরএএফ আক্রোতিরি' থেকে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেয়নি।

দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটির গুরুত্ব কী?
দিয়েগো গার্সিয়া ভারত মহাসাগরের চাগােস দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ এবং এখানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত।

এই মাসের শুরুর দিকে, ব্রিটিশ স্বার্থ বা জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে 'প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে'র জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে এ ঘাঁটি এবং গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

গত শুক্রবার, হরমুজ প্রণালিকে লক্ষ্য করে অবস্থান নেয়া ইরানি ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটিসমূহকে ব্যবহারের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য।

দিয়েগো গার্সিয়া সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এবং এটি নিকটতম ভূখণ্ড থেকে প্রায় এক হাজার মাইল মানে ১,৬০৯ কিমি দূরে অবস্থিত।

এই দুর্গম দ্বীপটি নিয়ে যুক্তরাজ্য এবং মরিশাসের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে একটি আঞ্চলিক বিরোধ চলছে।

গত মে মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া এক চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য বছরে গড়ে ১০১ মিলিয়ন পাউন্ড ফি দিয়ে ৯৯ বছরের জন্য দিয়েগো গার্সিয়া পুনরায় ইজারা নেবে।

নাইন-ইলেভেনের পর আফগানিস্তানে হামলা চালানাের জন্য এই যৌথ সামরিক ঘাঁটি মার্কিন বি-টু বম্বারে জ্বালানি ভরার কাজে ব্যবহার হত।

নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে যৌথ হামলা চালিয়েছে।

তবে, হামলায় কোনও ধরনের তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি এবং কেন্দ্রের আশপাশে বসবাসকারী বাসিন্দারা ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন বলে জানানাে হয়েছে।

এদিকে, জাতিসংঘের পরমাণবিক সংস্থার প্রধান 'পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সামরিক সংযম' প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সকালে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরান জানানোর পর এ সতর্কবার্তা এলো।

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে যে, তেহরান তাদের জানিয়েছে যে ওই স্থাপনায় 'আজ হামলা চালানো হয়েছে'।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "স্থাপনার বাইরে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বৃদ্ধির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আইএইএ অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে।"

সংস্থাটি আরও জানায় যে, মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি "যেকোনো পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে আবারাে সামরিক সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন।"

নাতাঞ্জ ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্লান্ট হচ্ছে ইরানের সবচেয়ে বড় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যা ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয়।

এই প্লান্টের দুইটি ইউনিট রয়েছে। একটি ইউনিট হলো পাইলট ফুয়েল এনরিচমেন্ট ফ্যাসিলিটি, যেখানে পরীক্ষামূলকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয়।

আরেকটি হলো মেইন ফুয়েল এনরিচমেন্ট ফ্যাসিলিটি, যেখানে বড় পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয়।

এই দুটি ইউনিটেরই অবস্থান মাটির নিচে, বিশেষ সুরক্ষা দিয়ে তৈরি যাতে বিমান হামলার আঘাত থেকে বাঁচানো যায়।

এই কেন্দ্রটিতে তিনটি বড় ভবন রয়েছে যার সবগুলোই মাটির নীচে নির্মিত এবং সেখানে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার সেন্ট্রিফিউজ রাখা যায়।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের