বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে দিল্লির গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
গত বুধবার (২৪ জুন) ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘দীনেশ ত্রিবেদীকে টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমমর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।’
অতীতে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার নজির রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন উদাহরণ খুবই বিরল বলে জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির পর্যবেক্ষকরা। উদাহরণস্বরূপ, কংগ্রেস নেতা প্রয়াত সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত থাকাকালে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন। এ ছাড়া দূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর কয়েকজন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকেও একই মর্যাদা দেয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এটি কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রোটোকল-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কোনও পরিবর্তন আসবে না। টেবিল অব প্রিসিডেন্স হলো রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা।
তবে এই মর্যাদা ত্রিবেদীর কূটনৈতিক অবস্থান ও মর্যাদা বাড়াবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপেক্ষাকৃত নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে আরও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে এটি তাকে সহায়তা করবে বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন স্থলবন্দর দিয়ে হেঁটে বাংলাদেশে প্রবেশ করা দীনেশ ত্রিবেদী বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন তিনি। আগামী ২৮ জুন থেকে এই ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

