কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের (১২) শরীরের পিঠ দিয়ে ভেতরে গুলি ঢুকে গেছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা গুলি বের করতে পারেননি। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এখন অপারেশন থিয়েটারে তার শরীর থেকে গুলি বের করার চেষ্টা চলছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মাদকবিরোধী মানববন্ধন করে ‘নাগরিক কমিটি’। সেখানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্কুলশিক্ষার্থীসহ সাতজন আহত হয়। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রেমকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী মানববন্ধনে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা ও গুলি চালায়। ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়া নিয়ে কাঁটাবিল এলাকায় গত বুধবার রাত থেকে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকার প্রতিবাদী লোকজনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাটাবিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী মানববন্ধন করা হয়।
স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের বাবা ইউনুছ মিয়া সমকালকে ‘সন্ত্রসীদের গুলি আমার ছেলের পিঠ দিয়ে শরীরের ভেতরে ঢুকে গেছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা গুলি বের করতে পারেননি। তারা শুধু ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন। এখন আমার ছেলে ঢাকা মেডিকেলে অপারেশন থিয়েটারে। গুলি বের করার চেষ্টা চলছে। পুরো রাস্তায় ছেলেটার শরীর থেকে অনেক রক্ত বের হয়ে গেছে।’
মানবন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজন জানান, দুপুরে হঠাৎ অস্ত্র হাতে একদল লোক মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটালে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন। সংঘর্ষ চলাকালে ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫ জন আহত হন।
এদিকে, স্থানীয়রা আহত ইথানকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অপর আহতদের নগরীর অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তাদের নাম জানা যায়নি।
এদিকে, গুলিবিদ্ধ ইথানের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার সমকালকে বলেন, ‘ঘটনাটি স্কুলের সামনের রাস্তায় ঘটেছে। টিফিনের বিরতির সময় বাসায় যাওয়ার পথে ইথান গুলিবিদ্ধি হয়েছে বলে পরে জানতে পেরেছি।’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স মাসুম বিল্লাহ সমকালকে বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে গুলিবিদ্ধ ওই স্কুল ছাত্রকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। গুলিটি পিঠ দিয়ে ভেতরে চলে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
স্কুলছাত্র প্রেমের বাবা ইউনুছ মিয়া কুমিল্লা সিটি পার্কের একটি রাইড্স পরিচালনা করেন। তিনি মুঠোফোনে সমকালকে বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো অপরাধ ছিল না। সে স্কুলের বিরতিতে টিফিন খেতে বের হয়েছিল। এর মধ্যেই পিঠে গুলি লাগে। তাকে কেন গুলি করা হলো। জানি না ছেলেটি বাঁচবে কিনা।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মানববন্ধন শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের একটি গ্রুপ অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আশপাশের বাড়িঘরে হামলা চালায় ও গুলিবর্ষণ করে। এসময় স্কুলছাত্র ইথান স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধসহ এলাকার কয়েকজন আহত হন। তাদের ভাষ্য, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রের মহড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ওই এলাকায় অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এতে এলাকার লোকজন মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী একটি মানববন্ধন আয়োজন করে। পরে সন্ত্রাসীরা সেখানে অতর্কিত হামলা ও গুলি চালায়। এসময় স্কুলছাত্র ইথান গুলিবিদ্ধ হয়। কুমিল্লায় তার গুলি বের করতে না পারায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। ওসির ভাষ্য, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনিব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। ঘটনার পরপরই রর্যা ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

