নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এক এজেন্টকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বিভাগ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। তবে ওই এজেন্টের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত শুধু প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি ফৌজদারি (অপরাধমূলক) অভিযোগও আনা হবে—সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কর্মী এমএসএন নাউ-কে জানিয়েছিলেন যে, ভ্যান্সের ব্যক্তিগত সফরের শেষ মুহূর্তের অনুরোধগুলো নিয়ে নিরাপত্তা এজেন্টরা ‘চরম বিরক্ত ও অতিষ্ঠ’ হয়ে পড়েছিলেন।
এ ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন সংবাদমাধ্যমে অনুমতি ছাড়া তথ্য ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে।
কর্মীটির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে ঘটনাটি নিরাপত্তা এজেন্টদের বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ করেছিল, তা হলো—ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং তাঁর ছোট ছেলেকে গলফ শেখানোর জন্য Marine Two হেলিকপ্টারে করে ওয়াশিংটনের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নেওয়ার অনুরোধ। শেষ পর্যন্ত খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই সফরটি হয়নি। তবে এমন প্রস্তাবই অনেক নিরাপত্তা এজেন্টকে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, নতুন বাড়ি খোঁজার সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স একাধিকবার হেলিকপ্টারে করে ভার্জিনিয়ার মিডলবার্গে যাতায়াত করেছেন। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স যথাক্রমে ৯, ৬ ও ৪ বছর। এছাড়া তারা তাদের চতুর্থ সন্তানের প্রত্যাশা করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের যাত্রার জন্য মেরিন টু হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হলে হোয়াইট হাউস মিলিটারি অফিসের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। ২০২২ সালের পেন্টাগনের বাজেটের হিসাব অনুযায়ী, এই হেলিকপ্টার পরিচালনার খরচ প্রতি ঘণ্টায় করদাতাদের প্রায় ১৬ হাজার থেকে ২৪ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার।
তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের একজন মুখপাত্র কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে দেন এবং ভ্যান্স পরিবারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের প্রশংসা করেন।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের বরাতে তিনি বলেন, ‘ভ্যান্স পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের সেই নারী-পুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা নিষ্ঠা ও সম্মানের সঙ্গে দেশের সেবা করে চলেছেন।’
নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়ে প্রতিবেদনের পর নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের তলব। এর আগে চলতি মাসে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প প্রশাসন দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর কয়েকজন সাংবাদিককে সমন জারি করে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।
শুক্রবার জারি করা ওই সমনে সাংবাদিকদের বুধবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে। পত্রিকাটি আরও জানায়, ফেডারেল এজেন্টরা কয়েকজন সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে সমন পৌঁছে দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, সংবিধানের প্রথম সংশোধনী (ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট), যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে, সাংবাদিকদের সমন অমান্য করার অধিকার দেয় না—যদি না প্রমাণিত হয় যে সমনটি অসৎ উদ্দেশ্যে বা হয়রানির জন্য জারি করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, তারা সাংবাদিকদের নয়; বরং গোপন তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে চায়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

