বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। রয়টার্স, বিবিসি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি), ব্লুমবার্গ, মানিকন্ট্রোল এবং ডব্লিউআইওএনের মতো গণমাধ্যমগুলো তাদের প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, তার শারীরিক অসুস্থতা এবং দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বার্তা সংস্থাটি উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই পদত্যাগ নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক; নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত।
বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ে। আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থতার কথা জানানো হলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনকে এর পেছনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
হংকংভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমের বরাতে জানিয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব পালন সম্ভব না হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি দাবি করেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল তাদের বিশ্লেষণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছে। অন্যদিকে ব্লুমবার্গ ও ডব্লিউআইওএন বলেছে, ২০২৮ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই রাষ্ট্রপতির বিদায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো আরও উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা কার্যকর হয়। সংবিধানের বিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

