ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার রাতভর হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কিয়েভ। হামলায় উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতের এসব হামলার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে অন্তত ছয়জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার পর আগুনে জ্বলতে থাকা ভবন ও যানবাহনের ছবি প্রকাশ করেছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘শহরটিতে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জিরকন ও নির্দেশিত বোমা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামোয় সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে।’
জাপোরিঝঝিয়ার জাপোরিঝস্তাল ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ছয়জনই তাদের কর্মী। বিমান হামলার সতর্কতা জারির পর আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তারা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ২১ কর্মী আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিপ্রোপেত্রোভস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন।
রাজধানী কিয়েভে একটি সংক্রামক রোগের হাসপাতালেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এ ছাড়া সম্মুখসারির শহর খেরসন ও খারকিভে হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ শহরে রুশ ড্রোন হামলায় ৭৫ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন।
জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির সুযোগ নিতে চাইছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এবং ওয়াশিংটনের ইরান যুদ্ধের দিকে মনোযোগ দেওয়ায় এই ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম আনছে এবং সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে, মস্কো শান্তির জন্য নয়, বরং সংঘাত আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য বলেছে, রাতভর হামলায় কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের স্থাপনা এবং পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে ইউক্রেনের রাতভর ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর আলেক্সান্দর গুসেভ।
তিনি জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি গুদামস্থাপনায় আগুন ধরে যায়। কোন গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা অবশ্য তিনি জানাননি।
রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, ভোরোনেজে তাদের সরবরাহকেন্দ্রগুলো হামলার আশঙ্কায় আগেই খালি করা হয়েছিল। ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনাও রয়েছে।
গুসেভের দাবি, ভোরোনেজ শহর ও আশপাশের পাঁচটি জেলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ২০টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। এর মধ্যেই ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা জোরদার করেছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

