ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রথমবারের মতো পেট্রলপাম্পগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই হামলায় অত্যন্ত দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
ধারাবাহিক এই হামলায় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘ইউক্রনাফটা’র পেট্রল স্টেশনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আরো ১২ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত সোম ও শুক্রবার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এই হামলাগুলো চালানো হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি প্রায় ৩০০টি পেট্রলপাম্পে হামলার ঘটনা ঘটলেও, কিয়েভের অভ্যন্তরে এমন আক্রমণ এটাই প্রথম।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পেট্রলপাম্পে প্রথম হামলার পর উদ্ধারকারীরা যখন কাজ করছিলেন, তখন রাশিয়া সেখানে দ্বিতীয়বার হামলা চালায়। এতে একজন উদ্ধারকর্মীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
শুক্রবার উত্তর কিয়েভের পোচাইনা এলাকার ইউক্রনাফটা পেট্রল স্টেশনে বিস্ফোরণে তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা—তারা হলেন পাশের কার ওয়াশ দোকানের ম্যানেজার, তার স্ত্রী এবং পাশ দিয়ে যাওয়া একটি গাড়ির চালক।
হামলায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি রাস্তার পাশে পড়ে ছিল, যার জানালার কাচগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল এবং ভেতরের আসনগুলো রক্তে রঞ্জিত ছিল।
আক্রমণে সাধারণ প্রপেলার ড্রোনের পরিবর্তে উচ্চগতির জেটচালিত সাহেদ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। গতি বেশি হওয়ায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এগুলোকে ভূপাতিত করা বেশ কঠিন ছিল।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের মতে, আসন্ন শীতের আগে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা অচল করতে এবং সমাজে মানসিক আতঙ্ক ছড়াতে রাশিয়া কৌশলগতভাবে এই বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে টার্গেট করছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

