বৃহস্পতিবার,

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২ আশ্বিন ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার,

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

২ আশ্বিন ১৪৩৩

Radio Today News

রাশিয়ার অতিদ্রুত গতির ড্রোনে দিশেহারা ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
রাশিয়ার অতিদ্রুত গতির ড্রোনে দিশেহারা ইউক্রেন

রাশিয়ার তৈরি অতিদ্রুতগতির জেটচালিত সুপারফাস্ট ড্রোন ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে, যার সামনে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে কিয়েভের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ঘণ্টায় ৩৭০ মাইল গতিসম্পন্ন এবং ৯০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এই হামলাকারী যানগুলো রাশিয়ার তাতারস্তানের আলাবুগা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিপুল পরিমাণে তৈরি হচ্ছে।

পিস্টন-ইঞ্জিনের পুরনো সংস্করণের তুলনায় নতুন এই জেট ড্রোনগুলো ইউক্রেনের বহুস্তরের প্রতিরক্ষা বেষ্টনী সহজে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। কিভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া বর্তমানে মাসে প্রায় ৩,০০০টি এই ধরনের ড্রোন তৈরি করছে। জুনে এ জাতীয় ড্রোনের সংখ্যা ৩৫০টি থাকলেও আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২,৮০০টিতে। ফলে এই নতুন প্রযুক্তির ড্রোনগুলোর চারটির মধ্যে অন্তত একটি সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে, যা ইউক্রেনের রাজধানীর আকাশকেও সীমান্ত অঞ্চলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে আধুনিকায়নের মাধ্যমে একে নিখুঁত রূপ দেয়া হয়েছে। আগে ব্যবহৃত শাহেদ বা গেরান মডেলের ড্রোনগুলোর গতি ঘণ্টায় ১১০-১২৫ মাইল হওয়ায় ইউক্রেন প্রায় ৯০ শতাংশ ড্রোন ধ্বংস করতে পারত।

কিন্তু বর্তমান ‘গেরান ৫’ মডেলটি ঘণ্টায় ৩৭০ মাইল গতিতে আকাশে ওড়ে, যা ছোটখাটো ক্রুজ মিসাইলের রূপ ধারণ করেছে। নতুন নকশার এই ড্রোনে সোজা ডানা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত উন্নত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ব্যবস্থা এবং ইন্টারসেপশন এড়ানোর প্রযুক্তি রয়েছে, যার সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ৬২০ মাইল। হঠাৎ গতি বৃদ্ধির কারণে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন ধ্বংসের হার কমে ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে।

ড্রোন প্রযুক্তির এই আকাশছোঁয়া অগ্রগতির পেছনে বিদেশি উপাদানের ব্যবহার প্রকাশ্যে এনেছে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা। গেরান ৫ ড্রোনের ভেতর চীনের তৈরি টেলিফ্লাই টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্টসের ৯টি যন্ত্রাংশ এবং জার্মানির কৃত্রিম উপগ্রহ নেভিগেশন রিসিভার বোর্ডের সন্ধান মিলেছে।

প্রতিটি ড্রোনের উৎপাদন খরচ ১ লাখ থেকে দেড় লাখ ডলারের মতো, যা সাধারণ ড্রোনের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও এটি রাশিয়ার কোটি ডলারের 'খেল-১০১' বা 'কালিব্র' মিসাইলের বিকল্প হিসেবে চমৎকার কাজ করছে। এর ফলে রাশিয়া ব্যালাস্টিক মিসাইলগুলো সঞ্চয় করে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে।

ইউক্রেনের পদাতিক বাহিনীর থার্ড অ্যাসল্ট ব্রিগেডের উপ-অধিনায়ক মাকসিম জোরিন স্বীকার করেছেন, তাদের কাছে এই দ্রুতগতির ড্রোন কিংবা তা ঠেকানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় লড়াইয়ের উদ্যোগ এখন হাতছাড়া হয়েছে। স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ম্যানপ্যাডস দিয়ে এগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হলেও ইউক্রেনের কাছে অস্ত্রের অপ্রতুলতা রয়েছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, প্রায় ৬০টি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষেধক ড্রোন বা ইন্টারসেপ্টর তৈরিতে রাতদিন কাজ করছে, তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে কিভসহ মূল শহরের শপিং মল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কেন্দ্রগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের


Warning: Undefined variable $sAddThis in /home/radio4to0da9y/public_html/details.php on line 536