মঙ্গলবার,

১৮ মে ২০২১

সব মুসলমানের কল্যাণ চেয়ে কীভাবে দোয়া করব

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:১১, ৩ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০৩:৫৫, ১০ জানুয়ারি ২০২১

সব মুসলমানের কল্যাণ চেয়ে কীভাবে দোয়া করব

দোয়া হচ্ছে আল্লাহর জিকির বা স্মরণ। আল্লাহ তাআলা মানুষকে লক্ষ্য করেন বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব।’ (সুরা বাকারা : আয়াত)

আর আল্লাহকে স্মরণ করা ও স্মরণ না করার পার্থক্য নির্ণয় করে বিশ্বনবী হযরম মুহম্মদ (সা:) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাঁর প্রভুকে স্মরণ করে আর যে তাঁকে স্মরণ করে না এদের পার্থক্য হলো জীবিত এবং মৃতের ন্যায়।’ (বুখারি-মুসলিম)

ইসলাম মুসলমানদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। মুসলমানরা পরস্পর ভাই ভাই। ভাইয়ের জন্য ভাইয়ের দোয়া বা কল্যাণ চাওয়া গুণের। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের এবং ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভাইদের ক্ষমা করুন। আর মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! আপনি তো দয়ালু, পরম দয়ালু।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ১০)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, প্রত্যেক মুসলমানের বিপরীতে একটি করে সওয়াব মহান আল্লাহ তার আমলনামায় লিখে দেন।’ (তাবরানি : ৩/২৩৪)

শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন। এই হাদিসের মূলকথা হলো, যে ব্যক্তি মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, ওই ব্যক্তি প্রত্যেক মুসলিমের বিপরীতে একটি করে সওয়াব পাবে। কেউ যদি এটা বলে দোয়া করে যে, ‘হে আল্লাহ! আমার ও সব মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, জীবিত ও মৃত—সবার গুনাহ আপনি মাফ করে দিন’, তাহলে এর প্রতিদান হিসেবে আদম (আ.) থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এই দুনিয়ায় বসবাসকারী কোটি কোটি মুসলিম সবার জন্য একটি করে সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে।

প্রশ্ন হলো, কিভাবে সব মুসলমানের জন্য দোয়া করব? পবিত্র কোরআনে ইবরাহিম (আ.)-এর জবানে সব মুসলমানের জন্য দোয়া করার একটি নমুনা বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে আছে : ‘রব্বানাগ-ফিরলি ওয়ালি ওয়ালি-দাইয়্যা ওয়ালিল মু’মিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’

অর্থ : হে আমাদের রব! আমাকে, আমার মাতা-পিতাকে এবং সব ঈমানদারকে আপনি সেই দিন ক্ষমা করে দিন, যেদিন হিসাব কায়েম করা হবে। (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৪১)

কাজেই কোরআনে বর্ণিত এই দোয়ার আলোকে আগের-পরের সব মুসলমানের জন্য দোয়া করা যায়।