ইরান ও আমেরিকা-ইসরাইল জোটের মধ্যকার যুদ্ধ এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সরাসরি হামলা এবং ইসরায়েলের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম উত্তেজনার মুখে।
তেহরান ও দুবাই: ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধফরা বিমান ঘাঁটিতে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, আমেরিকা আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ এবং দুবাইয়ের খুব কাছের একটি এলাকা থেকে ইরানের খার্গ ও আবু মুসা দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। তাঁর মতে, এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই আমিরাতে মার্কিন অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে।
আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান এর উপযুক্ত জবাব দেবে, তবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা না করার বিষয়ে তারা সতর্ক থাকার চেষ্টা করবে। যদিও আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের একজন কূটনৈতিক উপদেষ্টা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, দেশটির আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে তিনি যোগ করেন, আমিরাত এখনো যুক্তি ও বুদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে চলেছে।
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক
এদিকে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মধ্য ইসরাইলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং বেশ কিছু প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে ইসরাইলি চ্যানেল ১২ রিপোর্ট করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ আকাশ থেকে জনপদে পড়তে দেখা গেছে।
ইসরাইলের 'মাগেন ডেভিড অ্যাডম' অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, সাইরেন শোনার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় চারজন আহত হয়েছেন এবং তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা দেয়।
যুদ্ধ এখন আর শুধু ইরান-ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকেও তা গ্রাস করতে শুরু করেছে। একদিকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা এবং অন্যদিকে ইসরাইলের প্রাণকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

