২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এরপর থেকেই তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
স্ত্রী ও সন্তান হারানোর তিন দিন পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম।
মানবিক দিক বিবেচনায় হাইকোর্ট তার ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করে।
সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। তিনিই এই খবর বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেন।
গত শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তার নয় মাস বয়সী ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় প্যারোল না পাওয়ায় সাদ্দামের মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলগেটের ভেতরে মাত্র ৫ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও ছেলেকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয় সাদ্দামকে।
সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে জেলগেটে মরদেহ দেখানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে সাঈদ আহমেদ রাজা জানান, “সাদ্দামকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানে অভিযুক্তদের তালিকায় তার নাম ছিলো না। অজ্ঞাতনামাদের একজন হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণও হয়নি। এরপর আমরা একটা মামলার জামিন করি আরেকটা মামলা দেয়। এভাবে সবশেষ সাত নম্বর মামলায় আদালতে উপস্থিত সব আইনজীবীর সম্মতিতে তার জামিন দেয়া হলো। বিষয়টাকে বিশেষভাবে দেখা হয়েছে।”
২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এরপর থেকেই তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

