কখনো কি এমন হয়েছ চারপাশে একদম নীরবতা, অথচ নিজের কানের ভেতর থেকেই স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে ‘ধপধপ’ শব্দ? যেন হার্টের স্পন্দন স্পষ্ট বুঝতে পারছেন। অনেকেই এমন অভিজ্ঞতাকে ঘুমের সমস্যা বা মানসিক চাপের ফল বলে ধরে নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি কোনও সাধারণ বিষয় নয়, বরং হতে পারে ‘পালসাটাইল টিনিটাস’ এর মতো সমস্যা।
পালসাটাইল টিনিটাস হলো টিনিটাসের একটি তুলনামূলক বিরল ধরন, যেখানে মানুষ নিজের কানের ভেতর ছন্দময় শব্দ শুনতে পান। এই শব্দটি সাধারণত হৃৎস্পন্দন সঙ্গে মিল রেখে শোনা যায়। অনেকের কাছে এটি ‘সোঁ সোঁ’, ‘ধপধপ’ বা ‘হুঁইশ’ ধরনের শব্দের মতো মনে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কানের কাছাকাছি ধমনি ও শিরায় রক্ত স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত বা অস্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হলে এমন শব্দ শোনা যেতে পারে।
কেন হয় এই সমস্যা
পালসাটাইল টিনিটাস অনেক সময় শরীরের ভেতরের কোনও সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এর সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া)
উচ্চ রক্তচাপ
ধমনি শক্ত হয়ে যাওয়া (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস)
থাইরয়েড হরমোন বেড়ে যাওয়া
মাথায় আঘাত
মস্তিষ্কে চাপ বেড়ে যাওয়া (ইডিওপ্যাথিক ইনট্রাক্রানিয়াল হাইপারটেনশন)
কানের কাছাকাছি রক্তনালির অস্বাভাবিক গঠন
রক্তপ্রবাহে চাপ বা গতি বেরে গেলে ফলে শব্দ তৈরি হয়।
পালসাটাইল টিনিটাসের নির্দিষ্ট একটি চিকিৎসা নেই। চিকিৎসক প্রথমে মূল কারণ শনাক্ত করেন। যেমন: উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তস্বল্পতা থাকলে সেটির চিকিৎসা করলে কানের শব্দ কমে যেতে পারে বা পুরোপুরি চলে যেতে পারে। এছাড়া শব্দের বিরক্তি কমাতে কিছু কৌশল কাজে আসতে পারে। যেমন-
পালসাটাইল টিনিটাসকে স্বাভাবিক ভাবলে বিপদ বাড়তে পারে। কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। যদি কখনও হঠাৎ এক কানে হৃৎস্পন্দন মতো শব্দ শুরু হয় তাহলে সময় নষ্ট করা যাবে না। আবার যদি কানের শব্দের সঙ্গে মাথা ঘোরা বা চোখে ঝাপসা দেখা দিলে, কিংবা শব্দটি হঠাৎ খুব জোরে বা স্থায়ী হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। পালসাটাইল টিনিটাস বিরক্তিকর হলেও এটি অনেক সময় শরীরের গুরুতর সমস্যার আগাম সংকেত হতে পারে। তাই কানে হৃৎস্পন্দন মতো শব্দ শুনলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

