বয়সের সাথে সাথে আমাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। এমনকি যুক্তি দেয়ার সক্ষমতাও কমে আসে। তবে, আশার কথা হচ্ছে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা যায় । এজন্য দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতায় জটিল ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনে ধাঁধা সমাধান, নতুন কিছু শেখা এবং গান শোনা বা বাদ্যযন্ত্র চর্চা—এই তিনটি সহজ অভ্যাসই যথেষ্ট। অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে, এই কাজগুলো নিয়মিত করলে মস্তিষ্কের নিউরনের সংযোগ শক্তিশালী হয় । সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহজ ও কার্যকরী কাজগুলো হলো-
ধাঁধা সমাধান এবং ব্রেন গেমস
শব্দছক , সুডোকু , বা জিগস পাজল সমাধান করা যুক্তিবিদ্যা, গণিত এবং দৃশ্যগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। এই কাজগুলো মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে একসঙ্গে সক্রিয় রাখে।
নতুন কিছু শেখা বা শখের কাজ
নতুন ভাষা শেখা, ছবি আঁকা, লেখালেখি করা বা এমনকি ভিন্ন রাস্তায় কর্মস্থলে যাওয়া—এসব মস্তিষ্ককে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। হার্ভার্ড হেলথ এর মতে, এই ধরণের সৃজনশীল কাজ মস্তিষ্কের কগনিটিভ ফাংশন বা জ্ঞানীয় ক্ষমতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।
গান শোনা, গান গাওয়া বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো
নিয়মিত গান শোনা, গান গাওয়া বা কোনো বাদ্যযন্ত্র (যেমন- গিটার, পিয়ানো) বাজানোর চর্চা মস্তিষ্কের সক্ষমতা বাড়ায়। এটি মস্তিষ্কের নিউরোপ্লাস্টিসিটি বাড়ায়, যার ফলে মস্তিষ্কের গঠনগত উন্নতি হয় এবং মানসিক চাপ কমে।
আরও যা জরুরি
মস্তিষ্কের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং মনোযোগ বাড়াতে ভালো ঘুম জরুরি।
নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
মানুষের সঙ্গে কথা বলা বা সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখে।
প্রতিদিনের রুটিনে এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ ও কর্মক্ষম রাখতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

