ওজন কমাতে, হজমশক্তি বাড়াতে অনেকেই ফল ও সবজির জুস পান করেন। তাই বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় পানীয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এবিসি জুস। এটি আমলকী, বিটরুট ও গাজরের সমন্বয়ে তৈরি।
আমলকী, বিটরুট ও গাজর-এই তিন উপাদানেরই আলাদা পুষ্টিগুণ রয়েছে। একসঙ্গে গ্রহণ করলে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। তবে এর সর্বোচ্চ উপকার পেতে সঠিক পরিমাণ ও সময় মেনে পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এবিসি জুসের যেমন কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, তেমনি অতিরিক্ত বা ভুলভাবে পান করলে দেখা দিতে পারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও।
এবিসি জুস কি সত্যিই ওজন কমাতে সাহায্য করে?
হ্যাঁ, এবিসি জুস ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই জুস শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি কমাতে সহায়তা করে। ফলে এটি পান করা শুরু করার পর দ্রুত ওজন কমেছে বলে মনে হতে পারে। পাশাপাশি এটি তুলনামূলক কম ক্যালরির একটি পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে উচ্চ ক্যালরির বা অতিরিক্ত চিনি-সমৃদ্ধ পানীয়ের বিকল্প হতে পারে।
এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পেট ভরা রাখতে এবং হজমশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে শরীরের চর্বি দ্রুত গলিয়ে ফেলা বা বিপাকক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এবিসি জুসের কার্যকারিতার শক্তিশালী ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই, এমনটাই বলা হয়েছে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে।
এবিসি জুস যেভাবে বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে
আমলা, বিটরুট ও গাজরের পুষ্টি উপাদান শরীরের সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনটি উপাদান একসঙ্গে পান করলে সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে-এমন নিশ্চয়তা নেই।
এবিসি জুসের বিভিন্ন উপাদান শরীরে শোষিত হয়ে হজম ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। ক্ষুধা ও অপ্রয়োজনীয় খাবারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এই জুস। আমলা, বিটরুট ও গাজরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
এবিসি জুসের আরও কিছু উপকারিতা
ওজন নিয়ন্ত্রণের বাইরেও আমলা, বিটরুট ও গাজরের পুষ্টিগুণ শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। আমলায় প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এ জুসের বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট রক্তনালির কার্যক্রম ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমলা, গাজর ও বিটরুটে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের সামগ্রিক স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে।
কখন এবিসি জুস পান করা ভালো?
এবিসি জুস সকালে পান করা যেতে পারে। ব্যায়ামের আগে পান করলে বিটরুটের নাইট্রেট ব্যায়ামের কর্মক্ষমতায় সহায়ক হতে পারে। সকালের নাশতার পর এ স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। তবে এ জুসে অতিরিক্ত চিনি বা মধু যোগ করা উচিত নয়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

