মঙ্গলবার,

১৬ এপ্রিল ২০২৪,

৩ বৈশাখ ১৪৩১

মঙ্গলবার,

১৬ এপ্রিল ২০২৪,

৩ বৈশাখ ১৪৩১

Radio Today News

বুয়েটের ছাত্র রাজনীতি: শিক্ষার্থীদের পাশে পাচ্ছে না ছাত্রলীগ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:০৫, ৩১ মার্চ ২০২৪

আপডেট: ২১:১৬, ৩১ মার্চ ২০২৪

Google News
বুয়েটের ছাত্র রাজনীতি: শিক্ষার্থীদের পাশে পাচ্ছে না ছাত্রলীগ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্র রাজনীতি ফেরানোর দাবি আদায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে পাচ্ছে না ছাত্রলীগ। বুয়েটে মধ্য রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রবেশকে ঘিরে আন্দোলন পাল্টা আন্দোলনের পর রোবাবার প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে বুয়েটে প্রবেশ করে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক । যদিও এসময় তাদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলো না বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।


রোববার (৩১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে প্রায় কয়েকশ নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে বুয়েট শহীদ মিনারে ফুল দেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। ফুল দিয়ে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে আবারো বুয়েট ত্যাগ করেন তারা। তবে এসময় বুয়েটের মূল ফটক এবং বিভিন্ন হলগুলোর প্রবেশ পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় বুয়েট ছাত্র ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক স্থান ত্যাগ করলেও ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা এরপরও বুয়েট শহীদ মিনারে ফুল দেন এবং ছবি তুলেন। তবে তারা কোনো স্লোগান দেননি। এদিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্র রাজনীতিকে ফেরানোর দাবি নিয়ে বুয়েটে প্রবেশ করলেও তাদের দাবির সাথে একাত্ততা প্রকাশ করতে দেখা যায় নি সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত কারণে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আজ (রোববার) ক্যাম্পাসে অবস্থান না নেওয়া মানে এই নয় যে বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের ছাত্ররাজনীতিবিহীন ক্যাম্পাস এর দাবি থেকে সরে এসেছে, এ দাবি বুয়েটের সকল ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীর।
তারা আরো বলেন, আজ বুয়েট এর ২০ ব্যাচের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা ছিল, উক্ত পরীক্ষায় ক্যাম্পাসে কোনোরুপ অবস্থান আন্দোলন ছাড়াই, কোনো বাধা ছাড়াই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র ১ জন বাদে সকল শিক্ষার্থীই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিল। ১২১৫ জন ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২১৪ জনই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এছাড়াও গতকাল ৩০ মার্চ, ২০২৪ বুয়েট ২২ ব্যাচ এর প্রথম টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাতেও কোনো শিক্ষার্থীই অংশগ্রহণ করেনি অর্থাৎ শতভাগ অনুপস্থিত ছিল। এ থেকেই শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত নৈতিক অবস্থান ক্যাম্পাসে পুনরায় ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে কতটুকু সুদৃঢ় তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
অন্যদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চাইলে বুয়েটে আবার ছাত্র রাজনীতি ফিরতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বুয়েট উপাচার্য।
এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সমাবেশে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি ফেরানোর আলটিমেটাম ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, বুয়েট প্রশাসনের কাছে আমাদের আহবান থাকবে অনতিবিলম্বে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চালু করতে হবে। যে নিয়ম আপনারা শুরু করেছেন সেটি কালাকানুন, সেটি কালো আইন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার কোনো আইন নাই। যদি থেকেও থাকে সেটি সংবিধানবিরাধী। আমরা আজ শহীদ মিনার থেকে বুয়েট প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিচ্ছি অনতিবিলম্বে ছাত্ররাজনীতি চালু করতে হবে। স্বল্পতম সময়েত মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। বুয়েট শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বির সিট ফিরিয়ে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানি ছাত্র রাজনীতিতে নেগেটিভ এলিমেন্ট রয়েছে। তবে এটাকে সংস্কার করতে হবে আরও ভালো ছাত্ররাজনীতি দিয়ে। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে সংবিধান অবমাননা করা হয়, যাচ্ছেতাই ক্যাম্পাস কালচার তৈরি করে। অন্ধকার রাজনীতি চর্চা করবে মৌলবাদী ও স্বাধীনতার বিপক্ষের গোষ্ঠীরা। হিজবুত তাহরীর শিক্ষার্থীদের অফিসিয়াল ইমেইলে মেইল পাঠায় খেলাফত প্রতিষ্ঠার, ক্যম্পাসে কিউআর কোড লাগায় জঙ্গিবাদ চর্চার। আমিরা চাই বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আধুনিকায়ন করে স্মার্ট ছাত্ররাজনীতি উপহার দিবে। তারা তাকলাগানো প্রযুক্তি তৈরি করে বাংলাদেশকে গর্বিত করবে। আপনারা বলেন ছাত্ররাজনীতিতে র‍্যাগিং ও গেস্টরুম কালচার রয়েছে। আপনারা শিক্ষার্থীরা আসুন, ছাত্ররাজনীতির স্ট্যান্ডার্ড তৈতি করুন আমরা গণতান্ত্রিকভাবে তা অনুসরণ করবো।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতসহ বিভিন্ন হল, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বাঙলা কলেজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এদিকে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চালুর বিষয়ে ছাত্রসংগঠনের দাবির প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেছেন, তখন (২০১৯ সালে আবরার ফাহাদ হত্যা) যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত (ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা) নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটা যদি পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তাঁদের আবার উদ্যোগী হতে হবে।
 

রেডিওটুডে নিউজ/ইআ

ইমদাদুল আজাদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের