আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি (দশম, একাদশ ও দ্বাদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে চিঠি পাঠালেও সংস্থাটি এখনো তথ্য পায়নি। এতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এই মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শেষ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনো তদন্তের কাজ চলছে।
পুরাপুরি তথ্য পায়নি। নির্বাচন কমিশনে তথ্য চেয়েছি। কিন্তু তারা খুব ব্যস্ত থাকায় ১২ ফেব্রুয়ারি পর যোগাযোগ করতে বলেছে। নির্বাচন শেষ হলে বাকি কাজটা করতে পারব।তা ছাড়া জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের জমা দেওয়া রিপোর্ট সংগ্রহ করে তা যাচাই-বাচাই করছি।’
গত বছরের ২২ জুন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব ‘পালন না করে’ উল্টো ‘ভয়-ভীতি দেখিয়ে’ জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন করার অভিযোগে মামলা করে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মামলা, গুম, খুন ও তথ্য সংরক্ষণ সমন্বয়ক সালাহ উদ্দিন খান। পরবর্তীতে এ মামলায় নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ধারা যুক্ত করা হয়। মামলায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি এ কে এম নুরুল হুদা ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়।
আদালত ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২২ জুন সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৩ জুন তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। প্রথম দফার রিমান্ড শেষে গত ২৮ জুন আবারও তার চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে গত ১ জুলাই তিনি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এ মামলায় গত ২৫ জুন মগবাজার এলাকা থেকে আরেক সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ২৬ জুন তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২৮ জুন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ আগস্ট নির্বাচন কমিশন (ইসি)-র সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে ও ২৫ আগস্ট সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আটক রয়েছেন। এর আগে গত বছরের ৭ আগস্ট কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ, সাবেক ৯ নির্বাচন কমিশনার ও দুই নির্বাচন কমিশন সচিবসহ ১২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো. শাহ নেওয়াজ, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, মো. আলমগীর, মো. আনিছুর রহমান, সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ সাদিক পলাতক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তিন নির্বাচনে ‘গায়েবী মামলা, অপহরণ, গুম খুন ও নির্যাতনের’ ভয় দেখিয়ে, বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘গণগ্রেপ্তার’ করে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়। সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সত্বেও সংবিধান লঙ্ঘন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, সরকারি কর্মচারী হয়েও অবৈধভাবে ভোটে হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটের কাজ সম্পূর্ণ করা ও জনগণের ভোট না পেলেও সংসদ সদস্য হিসেবে মিথ্যাভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এসব ঘটনার সাক্ষী সব ভোটকেন্দ্র এলাকার ভোটাররা এবং ভোটারদের মধ্যে যারা ভোট প্রদান করতে বঞ্চিত হয়েছেন তারাসহ ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অনেক সদস্যরা। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে অনেক সৎ প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিংশ অফিসারসহ স্থানীয় লোকজনসহ আরো অন্যান্যরা ঘটনার সাক্ষী হবে। ব্যালট পেপারে যে সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃতভাবে তারা ভোট দিয়েছে কি না সে বিষয়ে এ ঘটনার সঠিক রহস্য তদন্তে সত্য উদঘাটিত হবে
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

