আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না : ববি হাজ্জাজ

বৃহস্পতিবার,

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৭ ফাল্গুন ১৪৩২

বৃহস্পতিবার,

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৭ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না : ববি হাজ্জাজ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:১৫, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না : ববি হাজ্জাজ

‘আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না’, আমরা শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়ব বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বাংলাদেশ কল্পনা করেন—দক্ষ, ন্যায়ভিত্তিক, প্রযুক্তিসক্ষম, মূল্যবোধসম্পন্ন—সেই বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো শিক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সেই ভিশনকে বাস্তবায়ন করা।’

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ১২টি পয়েন্টে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত এজেন্ডা তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন। 
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার প্রথম শর্ত অর্থায়ন। গত বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশের আশপাশে থেকেছে এবং জিডিপির অনুপাতে তা দেড়-দুই শতাংশের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করেছে—এটা একটি কাঠামোগত সীমা। কিন্তু আমাদের সরকারের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার : শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া—এটা আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার।

আর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও বলে, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪-৬ শতাংশ এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫-২০ শতাংশ-এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে হবে।’
উন্নয়ন বাজেটের শেষ ত্রৈমাসিকের হুড়োহড়ি বন্ধ করতেই হবে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, খরচের গুণগত মান বদলাতে হবে। আমরা স্বীকার করছি : উন্নয়ন বাজেটের একটা বড় অংশ বছরের শেষে হঠাৎ খরচ হয়; এর ফলে বই, নির্মাণকাজ, প্রশিক্ষণ সব কিছুই স্কুল ক্যালেন্ডার মিস করে। একটি কঠিন সত্য আজ আমি পরিষ্কারভাবে বলছি, গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অব্যবহৃত থেকে ফেরত গেছে।

এটা শুধু অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়, এটা শিক্ষার্থীর সময় ও সুযোগের ক্ষতি।’
অগ্রাধিকার জানিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা; বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, ভাষা ল্যাব ডিজিটাল কনটেন্ট ও মূল্যায়ন সক্ষমতা; স্কুল অবকাঠামো-বিশেষ করে পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা নির্বাচনী অঙ্গীকারও বাস্তবায়ন করব মিড-ডে মিল, পরিষ্কার টয়লেট এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা। কারণ প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, শিক্ষার মান মানে শুধু বই নয়, শিক্ষার্থীর মর্যাদা।’

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’—এটা শুধু ডিভাইস নয়, এটা পেডাগজি-রিফর্ম জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে আছে : ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব।

’ আমরা এটাকে ‘গ্যাজেট প্রজেক্ট’ বানাবো না। আমরা এটাকে বানাব শিক্ষণ-শেখার অপারেটিং সিস্টেম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সাথে সমন্বয় করে স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল লিটারেসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সচেতনতা, সাইবার সেফটি—এই তিনটি বাধ্যতামূলক সক্ষমতা হিসেবে নিয়ে আসব।’
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি : তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক—এটা ইশতেহারে আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। কারণ শিক্ষক, কনটেন্ট, মূল্যায়ন—সব প্রস্তুতি দরকার। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে তৃতীয় ভাষা (যেমন আরবি/চীনা/জাপানি/ফরাসি শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষার চাহিদা বিবেচনায়) শেখানো হবে। 

ববি হাজ্জাজ আরো বলেন, বিজ্ঞান, কোডিং, রোবটিকস-স্কুলকে বানাতে হবে ‘ইনোভেশন স্পেস’। আমরা মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই বিজ্ঞান-শিক্ষা, প্রযুক্তি-সাক্ষরতা, প্রজেক্ট-ভিত্তিক কাজকে প্রাতিষ্ঠানিক করবো। প্রতিটি উপজেলায় নির্বাচিত স্কুলে “রোবোটিক্স ও মেকার কর্নার” (লো-কস্ট কিট, সেন্সর, বেসিক প্রোগ্রামিং) হবে। বিজ্ঞানাগারকে “লকড-কাপবোর্ড” থেকে বের করে টার্ম-ভিত্তিক প্র্যাকটিক্যাল রুটিনে নিয়ে আসা হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণে “বিষয়জ্ঞান” এবং “অ্যাসেসমেন্ট লিটারেসি”-দুইটাই বাধ্যতামূলক করা হবে। 

তিনি আরো বলেন, কারিকুলাম যদি দক্ষতা বলে, আর পরীক্ষা যদি মুখস্থ মাপে-তাহলে কোচিংই জেতে। আমরা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-কে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেব। প্রতিটি বিষয়ে লার্নিং ট্রাজেক্টরি ও গ্রেড-টু-গ্রেড কনসেপ্ট ম্যাপ প্রকাশ; পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে ওয়ার্কড এক্সাম্পল, প্র্যাকটিস সেট, রিভিশন ক্যালেন্ডার যুক্ত করা; বোর্ড পরীক্ষায় ধাপে ধাপে আইটেম ব্যাংক ইত্যাদি। এখানে লক্ষ্য একটাই: শিখন-ফলাফল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার বলেছেন-” সার্টিফিকেট নয়, সক্ষমতা” আমরা সেই সক্ষমতাকে পরীক্ষায় আনব।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সরকারি স্কুল, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আলিয়া মাদ্রাসা, কওমি শিক্ষা, কারিগরি সব আছে। এই বৈচিত্র্যকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু বৈচিত্র্য মানেই অসম মান হতে পারে না। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ যৌথভাবে ন্যূনতম শিখন- মানদণ্ড (মিনিমাম লার্নিং স্ট্যান্ডার্ড) নির্ধারণ করবে। মাধ্যমিক থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামুলক হবে-মানসিক স্বাস্থ্য, শৃঙ্খলা ও ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্টের জন্য। উপজেলা/জেলা পর্যায়ে ট্যালেন্ট হান্ট এবং স্কুল লীগ হবে।

মাধ্যমিক-কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়-পথগুলোকে যুক্ত করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী এক ট্র্যাকে ঢুকলে আরেক ট্র্যাকে যেতে পারে না-এটা “ডেড এন্ড” তৈরি করে। আমরা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে স্কিল ক্রেডিট/ব্রিজ কোর্স; মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত; শিল্প-একাডেমিয়া ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার সেন্টার-বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বাধ্যতামূলক করা হবে।

ববি হাজ্জাজ আরো বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা “জ্ঞান প্রতিষ্ঠান” না হলে অর্থনীতি উঠবে না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ক্লাস নেবে না-গবেষণা করবে, উদ্ভাবন করবে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ইনোভেশন গ্র্যান্ট-এটা ইশতেহারের অঙ্গীকার। শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা সহায়তা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের “জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি” নির্মাণের রোডম্যাপের অংশ।

সবশেষে তিনি বলেন, জবাবদিহি থাকতে হবে কন্ট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্টস থেকে ক্লাসরুম পর্যন্ত। আজ আমরা দিকনির্দেশ দিলাম। বাস্তবায়নের জন্য আমরা তিন ধাপের টাইমলাইন ধরে এগোবো- প্রথম ধাপ (এখন থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত): উন্নয়ন বাজেটের ৫৩ শতাংশ ফেরত যাওয়ার কারণভিত্তিক “রুট-কজ অ্যানালাইসিস”; শিক্ষক ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া, ভাষা শিক্ষা-পাইলট ডিজাইন। দ্বিতীয় ধাপ (ঈদুল ফিতরের পর):

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতি নিয়ে আমরা জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ ঘোষণা করবো। তৃতীয় ধাপে (১২-৩৬ মাস) আমরা করবো: পরীক্ষা ও মূল্যায়নের বড় টেকনিক্যাল রিফর্ম; কারিগরি-সাধারণ-মাদ্রাসা ব্রিজিং এবং বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের