দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরি স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত সার্কুলার জারি করে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১’ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সব নির্দেশনা জারি করেছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, সার্বিক ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকগুলোতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ব্যাংককে নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে যুগোপযোগী, সমন্বিত ও কার্যকর ‘মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
উক্ত নীতিমালায় স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, শিক্ষানবিশকাল ও স্থায়ীকরণ, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন, বেতন-ভাতা ও চাকরি-পরবর্তী সুবিধা, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন (এপিএ), জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, পদোন্নতি ও পদাবনমন এবং পদায়ন ও বদলির বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ও ‘সি-স্যুট’ পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ‘উত্তরাধিকার পরিকল্পনা’, চাকরির অবসান, পদত্যাগ, চাকরিচ্যুতি ও পুনঃনিয়োগ, ছুটি ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, আচরণবিধি, শৃঙ্খলা বিধান, স্বার্থের সংঘাত ব্যবস্থাপনা, দাপ্তরিক গোপনীয়তা রক্ষা এবং ‘হুইসেলব্লোয়ার’ (তথ্য প্রকাশকারী সুরক্ষা) সংক্রান্ত নীতিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, নতুনভাবে প্রণীত বা হালনাগাদ করা মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অনুমোদন নিয়ে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, স্বজনপ্রীতি রোধ ও আবেদনের সুযোগে সমতা নিশ্চিত করতে যেসব প্রারম্ভিক পদে প্রার্থীর পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই, সেসব পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট, জনপ্রিয় জব পোর্টাল এবং কমপক্ষে দুটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রারম্ভিক পদের আওতায় ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও), সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার, ট্রেইনি ক্যাশ অফিসার, জুনিয়র ক্যাশ অফিসার, ক্যাশ অফিসার বা সমপর্যায়ের পদসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, এসব এন্ট্রি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি কিংবা অনলাইন অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে। সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই কেবল প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা নিয়োগ পাবেন।
এন্ট্রি পদ ব্যতিরেকে অন্যান্য উচ্চতর বা অভিজ্ঞ পদে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে; যেখানে ন্যূনতম মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে চাকরিতে যোগদানের এক বছরের মধ্যে তাদে অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ মূল প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করতে হবে। একইভাবে এ সার্কুলার জারির পূর্বে নিয়োগ পাওয়া সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের কাজ আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চাকরিতে যোগদানের পর কোনো কর্মকর্তা পদোন্নতি বা অতিরিক্ত আর্থিক/অনার্থিক সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে নতুন কোনো পেশাগত বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দাখিল করলে, তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাচাই পূর্বক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়ায় সনদ যাচাই করতে হবে। যদি তদন্তে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ভুয়া বা জাল প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি উক্ত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘কর্পোরেট মেমোরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (সিএমএমএস)-এ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

