রোববার,

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

১২ আশ্বিন ১৪৩৩

রোববার,

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,

১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Radio Today News

মিয়ানমারের জেনোসাইড মামলার রায় অক্টোবর-নভেম্বরে

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৫৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Google News
মিয়ানমারের জেনোসাইড মামলার রায় অক্টোবর-নভেম্বরে

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর জেনোসাইডের অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার রায় আগামী মাসের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ. জালো। 

একটি বেসরকারি চ্যানেলকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অপরাধ প্রমাণের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিপুল পরিমাণ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে গাম্বিয়া।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পরও যখন অনেক প্রভাবশালী দেশ কার্যকরভাবে এগিয়ে আসেনি, তখন মানবতার দায় থেকে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে ওআইসির সদস্য দেশ গাম্বিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার মূল শুনানি চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ. জালো বলেন, মামলার শুনানিতে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের আদালতে হাজির করে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ছবি, জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদন, এনজিওর রিপোর্ট এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছে গাম্বিয়া।

দাউদা এ. জালো বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আমরা যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছি, তার পরিমাণ অনেক। রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের আন্তর্জাতিক আদালতে হাজির করে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ছবি, প্রতিবেদন ও এনজিওর রিপোর্টসহ নানা ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতের সামনে পেশ করা হয়েছে।

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা মামলার মূল শুনানি গত জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে। চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তার মতে, রায় অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুর দিকে ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রায়ে মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে বলে আশা করছেন গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের মিয়ানমারের নিজস্ব আইনের আওতায় বিচারের নির্দেশনাও আদালত দিতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দাউদা এ. জালো বলেন, আদালতে বিপুল পরিমাণ প্রমাণ উপস্থাপন করায় আমরা আশাবাদী যে আদালত গাম্বিয়ার সঙ্গে একমত হবে এবং মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী সাব্যস্ত করবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন প্রতিকারের দাবিও জানিয়েছে গাম্বিয়া।

এসব দাবির মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিজ নিজ ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, হারানো সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের সুযোগ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার।

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আরও জানান, মিয়ানমার যদি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় না মানে, তাহলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে আইসিজের রায়কে শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। সূত্র: চ্যানেল 24

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের


Warning: Undefined variable $sAddThis in /home/radio4to0da9y/public_html/details.php on line 536