শুক্রবার,

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২,

১৫ আশ্বিন ১৪২৯

শুক্রবার,

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২,

১৫ আশ্বিন ১৪২৯

Radio Today News

নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয় ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত তা প্রমাণ করে

রেডিওটুডে ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৫১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৮:৫২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয় ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত তা প্রমাণ করে

মুজিবুল হক চুন্নু

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত গরিবের ঘোড়া রোগের মতো। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয় তা রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও ইভিএম কেনার সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে।

নির্বাচন কমিশনের বিবেক ও দেশপ্রেম নেই 
বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশ যখন ডলারের অভাবে জ্বালানি তেল কিনতে পারছে না। দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির কারণে হিমশিম অবস্থা। বাজার-সদাই, ওষুধ ও শিশুখাদ্য কিনতে পারছে না মানুষ। এমন বাস্তবতায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকায় ইভিএম মেশিন কেনার কোনো যুক্তি নেই। সরকার জনগণের কষ্টের টাকায় ইভিএম না কিনে এক কোটি দুস্থ ও বেকারকে সহায়তা করতে পারে।

দুপুরে জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে পল্লীবন্ধু পরিষদের সঙ্গে মতবিনিয়ম সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি এসময় ইভিএম কিনতে হাতে নেওয়া ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

জাপা মহাসচিব বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রত্যেককে আমরা চিনি। তারা সবাই আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভালো নিয়োগ, প্রমোশন ও পোস্টিং পেয়েছেন। সবাই আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী। নির্বাচন কমিশনের মতো সংবিধানিক পদে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া তিনি নিয়োগ দিতে পারেন না।

আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরাই নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ পেয়েছেন জানিয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক দেশই ইভিএমে নির্বাচন বন্ধ করেছে। ভারতেও সমালোচনা হচ্ছে। ভারতের কংগ্রেস ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইভিএমে ভোট হলে নির্বাচনে যাবে না। সারা বিশ্বে ইভিএম নিয়ে সমালোচনা ঝড় বইছে। অথচ আমাদের নির্বাচন কমিশন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইভিএম কিনতে উঠেপড়ে লেগেছে।

তিনি আরও বলেন, ইভিএমের কোনো দোষ নেই। যারা ইভিএম পরিচালনা করবেন, দোষ তো তাদের। এছাড়া ইভিএমে অনেক সময় আঙুলের ছাপ মেলে না। এতে ঝামেলা সৃষ্টি হয়, ভোটগ্রহণেও বিলম্ব হয়। আর দেশের মানুষ এখনো ইভিএমে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। তাছাড়া দেশের মানুষ মনে করে, ইভিএম হচ্ছে নীরবে ভোট কারচুপির মেশিন।

জাপা মহাসচিব আরও বলেন, ইসিতে ডেকে সব রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়া হয়েছে। তবে শাসকদল শুধু ইভএমে ভোট নেওয়ার পক্ষে কথা বলেছে। সরকারের শরিক কিছু দলও বিভিন্ন শর্ত আরোপ করে ইভিএম চেয়েছে। দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিপক্ষে মত দিয়েছে। যদি রাজনৈতিক দল-সুশীল সমাজের মতামতের গুরুত্ব না থাকে তাহলে দফায় দফায় কেন বৈঠক করলেন?

রেডিওটুডে নিউজ/এসবি

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের