
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে কয়টি সিট দেওয়া হবে, এমন প্রশ্নে একপক্ষ বলছে ৫০, অন্যরা বলছেন আরো কম!’ রবিবার (৩১ আগস্ট) নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘এই ভিডিওটি মূলত বিএনপির জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিএনপির যারা কট্টরপন্থী সমর্থক তারা হয়তো এই শিরোনাম দেখেই রাগ হয়ে যেতে পারেন।
তারা মনে করতে পারেন যে রনি সাহেব কী শুরু করেছেন, কী সব কথাবার্তা বলেছেন। কিন্তু আপনারা যদি সত্যিই সতর্ক হতে চান, বিএনপিকে ভালোবাসেন আমার কথাগুলো শোনেন, মনোযোগ সহকারে শোনেন। তারপর চিন্তা করেন। চিন্তা করার পর যদি অযৌক্তিক মনে হয় আমাকে জানান।
আমি সরি বলব। কিন্তু আমাকে কথাগুলো বলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে আমি যোগদানের পর আমার অর্থনৈতিক জীবন, পারিবারিক জীবন তারপরে যা কিছু আছে এতগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এটা বিএনপির খুব কম লোক এত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমার পুরো ব্যবসা-বাণিজ্য তছনছ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের লোকজন রাগ হয়ে তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে লাগিয়ে দিয়ে আমার পরিবারের উপরে আওয়ামী লীগ জমানাতের কুকর্ম সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছ। আমি ১ বছর টু শব্দ করতে পারিনি। আবার পরবর্তীতে এটা এই দেখা গেল যে বিএনপি বিরোধী শক্তি বিএনপির পক্ষে কথা বলার কারণে আমাকে হেয় করার জন্য ছোট করার জন্য আমাকে অপদস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার গ্রামের বাড়ি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে।
সেই বিশাল বাড়ি পৌত্রিক আমলের একটা ইটও নাই। কয়জনের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে? বিএনপির কয়জনের শত কোটি টাকার শিল্পক কল-কারখানা বন্ধ হয়ে আছে। আমার ১০০ কোটি টাকা দামের একটা শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়েছে? জয়েন্ট কোম্পানিতে আমার ১০০ কোটি টাকা মূল্যের কম্পানি বন্ধ হয়ে আছে, মানে খালি হয়ে আছে। রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এরকম আরো অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির সফলতা হলে আমি তৃপ্তি পাব। এমনকি বিএনপি ক্ষতি করলেও তৃপ্তি পাব। কিন্তু বিএনপির যদি পরাজয় ঘটে বিএনপি বিরোধী শক্তিরা যদি সেটা এখন জামাত এনসিপি বা আগের আওয়ামী লীগ ফিরে আসে। আমার এই যে ২০১৪ থেকে এখন পর্যন্ত যে সংগ্রাম এরপরেও সংগ্রামটা স্টপ হয়ে যাবে। এজন্য আমি তো বিএনপির কোন পদে নেই। পথ চাই না। বিএনপির হয়ে কোনদিন কোন ইলেকশন করবো না। এটা আমি ২০১৯ সালে তারেক রহমান সাহেবকে জানিয়ে দিয়েছি। আমি বলেছি ১৮ সালের নির্বাচন ইট ওয়াজ মাই লাস্ট ডিল উইথ ইউ।
বাট আমি আপনাকে সাহায্য করব, সহযোগিতা করব উইদাউট এনি ইন্টারেস্ট। সো আমি অন্য বিএনপির নেতাদের মত আমাকে মনেও করবেন না। আমিও আপনাকে মনে করবো না। এরকম সম্পর্ক তার সঙ্গে আমার ছিল এবং ওইভাবে আমি বলে যাচ্ছি। নির্লিপ্তভাবে আমার বলতে অসুবিধা নেই এই কারণ যে আমার তো কোন এক্সপেক্টেশন নাই বিএনপির কাছ থেকে। বিএনপি বললেও আমি কোন কিছু গ্রহণ করবো না। বিএনপি যদি সরকারেও আসে তখন আমাকে মেরে ফেললেও বিএনপি সরকারে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে না এটা লিখে রাখেন। এটাই বাস্তবতা তো এজন্য আসলে কথাগুলো আমি খুব সুন্দরভাবে বলতে পারছি।’
রনি বলেন, ‘এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী তিনি কক্সবাজারে বলেছেন যে বিএনপি বড় জোর ৫০ থেকে ১০০টি সিট পাবে। এই কথাটি শুনে বিএনপির লোক হেসে গড়াগড়ি দিল। তারা বললো আমরা যেখানে ২৮০ টা সিট পাব বাকি ২০ টা সিট আমরা ছেড়ে দিলে তোমরা পাবা। অন্য কেউ পাবে নালে পাবে না। আমরা ৩০০ আসনে জয় লাভ করব। কিন্তু এটাই সিদ্ধান্ত। এবং বুঝার চেষ্টা করেন আমাদের এই বাংলাদেশে এযাবতকালে যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে? সামনে ১৩তম নির্বাচন হবে তো ১২টা জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে।
আচ্ছা আমি একটা একটা করে হিসাব করে বলি ১৯৭৩ সালে যে নির্বাচনটা হলো সেটা কি নিরপেক্ষ হয়েছে? সবাই বলে না। সেখানে ভোট বাক্স ছিনতাই হয়েছে। মানুষ ইচ্ছামত ভোট দিয়েছে। পাইকারি হারে মানুষ আবেগে ভোট দিয়েছে। গণতন্ত্র নয় তখন আওয়ামী লীগের একটা জোয়ার ছিল। আবেগে ভোট দিয়েছে। তারপরও যে কয়জন শক্ত প্রতিদ্বন্দী ছিল তাদের আওয়ামী লীগ এবজর্ব করতে পারেনি। তাদের ওখানে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা থেকে শুরু করে সব কাজ করা হয়েছে। পরে সেখানে জানা গেল ভোটারের চেয়ে ভোট বেশি পড়েছে।’
তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘এরপরে কি হলো? প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলো। জিয়াউর রহমানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রথম রায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন জেনারেল উসমানীভ এখন জেনারেল উসমানী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন কিন্তু জেনারেল উসমানী মূলত জিয়াউর রহমান সাহেবের লোক ছিলেন। জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় এনেছেন জেনারেল উসমানী। এরশাদকে ক্ষমতায় এনেছেন জেনারেল উসমানী এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সমস্ত ঘটনার একেবারে ক্রিয়ানক ছিলেন জেনারেল উসমানী। কাকে কোন জায়গায় দিতে হবে, কি করতে হবে। এমনকি জেল হত্যাকাণ্ড ও তার এপ্রুভালে হয়েছে। তিনি অনুমতি দিয়েছেন তারপর মুস্তাক সাহস পেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এরপরে ৮৬ সালে যে সংসদ নির্বাচন হল। এরশাদের যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যেটা পুরোটাই একটা সাজানো। না রেজাল্ট আগে থেকে তৈরি করা ৮৬ ও ৮৮ দুটো নির্বাচন আগে তৈরি করা ১৯৯১ সালে যে নির্বাচনটা হলো সেটা হল শেখ হাসিনার একটি ভাষণে। লোকজন ক্ষেপে গেল ফলে বিএনপি কোন মানসিকভাবে প্রস্তুতি ছিল না ৯১ সালে বিএনপি জয় লাভ করে বসলো। ৯৬ তে বিএনপি ভাবেই নাই যে তারা ক্ষমতা থেকে যাবে। আওয়ামী লীগ ভাবে নাই তারা ক্ষমতা থেকে ক্ষমতায় আসবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য আছে। আওয়ামী লীগ আগামীবার ক্ষমতায় আসবে। এরপর থেকে হাসাহাসি করেছিলাম। ১৮ নির্বাচন নিয়ে আমার বক্তব্য শুনেন। আমি তো অনেকগুলো নির্বাচন করেছি। ফলে আমার নির্বাচনের ভিতরের বাইরের যে কাজগুলো হয় এই জিনিসগুলো আপনাকে বলি। যেমন ২০১৪ সালে যে নির্বাচনটা হলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আমি তো সেখানে প্রার্থী ছিলাম।’
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম