নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান: রয়টার্স

মঙ্গলবার,

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৮ মাঘ ১৪৩২

মঙ্গলবার,

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

২৮ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান: রয়টার্স

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:২১, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান: রয়টার্স

লন্ডনে প্রায় দুই দশকের স্বেচ্ছানির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার দুই মাসের মাথায় এক যুগান্তকারী নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তারেক রহমান। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের হাল ধরতে পারেন, যেমনটি এক সময় তার বাবা ও মা করেছিলেন।

জনমত জরিপগুলো যদি সঠিক হয়, তবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী মৃদুভাষী এই নেতার ভাগ্য পরিবর্তনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। ২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তিনি দেশ ছেড়েছিলেন।

গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনার পতনের পর, গত বড়দিনে তারেক রহমান বীরোচিত সংবর্ধনায় দেশে ফেরেন। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাসিত।

তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া এবং হাসিনা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। অন্যদিকে, তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম স্থপতি এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পর এক হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান।

হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশ ভারতের প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকে ছিল বলে মনে করা হতো। এর বিপরীতে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে ভারসাম্য আনবেন যাতে কোনো নির্দিষ্ট শক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়েই বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়।

এছাড়া তিনি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর না করে খেলনা ও চামড়াজাত শিল্পের প্রসার এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা রুখতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে (১০ বছর) সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।তারেক রহমান তার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ স্ত্রী ও আইনজীবী কন্যাসহ ঢাকায় পা রাখার পর থেকে ঘটনাবলি এত দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে, তিনি ভাবারও তেমন সময় পাননি। নিজ দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারের ফাঁকে তিনি বলেন, বিমান থেকে নামার পর প্রতিটি মিনিট কীভাবে পার হয়েছে, আমি জানি না। পাশে বসা তার কন্যা জাইমা রহমানও বাবার সমর্থনে জনমত গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

চশমা পরিহিত তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা শুরু করলেও পরে ব্যবসায়ে মন দেন।

গত এক দশক ধরে তার ভাবমূর্তিতে আমূল পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন তিনি। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে মায়ের প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় তাকে একজন উগ্র ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক কুশলী হিসেবে দেখা হতো। যদিও তিনি তখন কোনো সরকারি পদে ছিলেন না, তবে তার বিরুদ্ধে একটি সমান্তরাল ক্ষমতা কেন্দ্র চালানোর অভিযোগ ছিল, যা তিনি বরাবরই অস্বীকার করেছেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি বলেন, প্রতিহিংসা দিয়ে কী হয়? প্রতিহিংসার কারণেই মানুষকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। এটি কোনো ভালো কিছু নিয়ে আসে না। এই মুহূর্তে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

হাসিনা সরকারের আমলে তারেক রহমান ছিলেন দুর্নীতির মামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু। এমনকি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। তিনি সবসময়ই এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন এবং হাসিনার পতনের পর সব মামলা থেকেই খালাস পেয়েছেন।

লন্ডন থেকে তিনি দেখেছেন কীভাবে তার দল নির্বাচনগুলোতে কোণঠাসা হয়েছে, জ্যেষ্ঠ নেতারা কারাবরণ করেছেন এবং কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছেন। দেশে ফিরে এখন তিনি উসকানিমূলক কথাবার্তা এড়িয়ে বরং ধৈর্য ও জাতীয় ঐক্যের ডাক দিচ্ছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং ‘জনগণের মালিকানা’ প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন, যা বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

এমনকি তার পরিবারের সাইবেরিয়ান বিড়াল ‘জেবু’-ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে তার কঠোর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে কিছুটা নরম করতে সাহায্য করছে।

বিএনপির ভেতরে এখন তারেক রহমানের একচ্ছত্র আধিপত্য। দলীয় সূত্রমতে, আগে বিদেশ থেকে তদারকি করলেও এখন তিনি সরাসরি প্রার্থী বাছাই, কৌশল নির্ধারণ এবং জোট আলোচনার কাজ পরিচালনা করছেন। বংশগত রাজনীতির উত্তরাধিকারী হলেও তারেক রহমান জানিয়েছেন, গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, শুধু গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমেই আমরা সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারি। আমরা সেই গণতন্ত্রই চর্চা করতে চাই এবং দেশ গড়তে চাই।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের