প্রস্তাবিত বাজেটকে বিশাল ঘাটতি ও ‘সাদা হাতির বাজেট’ আখ্যা দিয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ। তিনি বলেন, দেশকে রক্ষা করার জন্য সবাইকে যদি একবেলা না খেয়েও থাকতে হয়, তবুও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের বাজেট বেশি করে দিন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রতিরক্ষা খাতের বাজেট নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে মাত্র ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকাই পরিচালনা ব্যয়। মাত্র ৭ হাজার কোটি টাকা দিয়ে কি আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সম্ভব? আমাদের চারপাশের বর্ডার থেকে প্রতিদিন হুমকি আসছে। পঞ্চগড়, হিলি, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা থেকে শুরু করে দক্ষিণের ফেনী এবং চিকেন নেক নিয়ে আমরা হুমকির মুখে আছি। দেশের সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে, তখন এই বাজেট দিয়ে প্রতিরক্ষা সম্ভব নয়।
মিয়ানমার সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে যুদ্ধ চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি-চিনসহ তিন তিনটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের সেনাবাহিনীর দুটি ডিভিশন কাজ করছে। বঙ্গোপসাগরে আমাদের মাত্র দুটি পুরনো ফ্রিগেট আছে, অথচ সেখানে এক ডজনের বেশি আধুনিক ফ্রিগেট দরকার। আকাশে ১৯৬০ সালের ডিজাইনের এফ-৭ আর মিগ-২৯ দিয়ে প্রতিরক্ষা চলছে। ভারত ও মিয়ানমার যেখানে জিডিপির আড়াই থেকে সাড়ে তিন শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করে, সেখানে আমাদের অবস্থান তলানিতে।
এসময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, এই আজাদ ভূমিকে রক্ষা করার জন্য বাংলার হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাইকে যদি একবেলা না খেয়েও থাকতে হয়, তবুও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের বাজেট বেশি করে দিন।
বাজেটে নির্দিষ্ট খাতের উল্লেখ ছাড়া বিশাল অঙ্কের থোক বরাদ্দের সমালোচনা করে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, সংবিধানের ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাজেটে খাতের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম ৪৭ থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকার কোনো খাত নির্ধারণ ছাড়াই থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি বড় ঘাটতি এবং সংবিধানের লঙ্ঘন। আমি মনে করি, এই টাকাটা প্রতিরক্ষা খাতে দেওয়া উচিত।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

