রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এদিকে সংঘর্ষের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে সমকালের সাংবাদিক নাজমুল ইসলামও আহত হন।
আহত অন্যরা হলেন- মাদরাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক (৫০), মাদরাসার ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ, লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিছার উদ্দিন রাব্বি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ, লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক জানে আলম ও ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল হোসেন মমিন। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত নিছার উদ্দিন রাব্বি অভিযোগ করেন, তিনি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নন। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে মাদ্রাসা চত্বরে বসে থাকাকালে শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, সানাউল্লাহর দুই পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। রাব্বির বাম পায়ে ইটের আঘাত ও পড়ে গিয়ে বাম হাতে চোট লেগেছে। সাংবাদিক নাজমুল ইসলামের পায়ে ইটের আঘাত এবং অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হকের মাথায় আঘাত রয়েছে।
সমকাল সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। সংঘর্ষের সময় আমি বিদ্যুতের খুঁটির পেছনে থেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলাম। এ সময় ইট এসে আমার পায়ের গোঁড়ালিতে লাগে এবং চামড়া ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে আমার সহকর্মী ও সাংবাদিকরা উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আামার পায়ে সাতটি সেলাই দিতে হয় ও প্লাস্টার করে দেওয়া হয়।’
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রথম দফায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কিছু সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল থেকেই হলের সিট নিয়ে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় কয়েকজনের হাতে লোহার পাইপ, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দুই পক্ষকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হতে দেখা গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার মো. মাহফুজার রহমান বিকেলে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

