চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের জহুরপুরটেক সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার পর পদ্মা নদীর ভারতীয় জলসীমায় বিএসএফর হাতে আটকের পর এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জহুরপুরটেক সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ কম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পর মরদেহ ফেরত দেওয়া হবে।
ওই বাংলাদেশির নাম রবিউল ইসলাম (৩৬)। তিনি নারায়নপুরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাতরশিয়া গ্রামের নেজাবুল হকের ছেলে। তিনি গরু চোরাচালানে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
অসুস্থ হয়ে রবিউল মারা গেছেন বলে বিএসএফ দাবি করলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফের হাতেই তিনি নিহত হয়েছেন।
জানা গেছে, রবিবার ভোরে ৩/৪ জন বাংলাদেশি গরু আনতে ভারতে যাওয়ার পর অন্যরা পালিয়ে আসলেও নদী থেকে বিএসএফের হাতে আটক হন রবিউল। আটকের পর তাকে সংশ্লিষ্ট বিএসএফ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। এরপর মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর হাসপাতালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রবিবার সকালে সীমান্তের ওপারে এক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পায় বিজিবি।
পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রবিউলের বাবা জহুরপুরটেক ক্যাম্পে এসে মারা যাওয়ার খবর দেন। তার ছেলে কিছুটা অসুস্থ ছিল বলেও জানান তিনি। এরপর সন্ধ্যায় বিজিবির সঙ্গে ৭১ বিএসএফের বয়রাঘাট ক্যাম্পের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিএসএফ রবিউলকে বোট নিয়ে ধাওয়া করে আহত ও অসুস্থ অবস্থায় আটক এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। মরদেহ ও মৃত্যুসংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তারপর সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান অধিনায়ক মুস্তাফিজ।
নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, গত শনিবার রাত ১০টার পর থেকে রবিউল নিখোঁজ ছিলেন। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারত থেকেই তার মৃত্যুর খবর জানা যায়। বিএসএফের হাতেই তিনি নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ২ নম্বর ইউপি ওয়ার্ড সদস্য রমজান আলী বলেন, বিএসএফের হাতেই রবিউল নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সীমান্তের বিভিন্ন সূত্রে তার মৃত্যুর খবর প্রথম জানা যায়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

