নরসিংদীতে কিশোরী আমেনা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তার সৎবাবা আশরাফ আলী মেয়েটিকে হত্যা করে অন্যদের নামে মামলা সাজিয়েছেন। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক।
পুলিশ সুপারের তথ্যমতে, আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরার সঙ্গে আমেনার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের ১০-১২ দিন আগে আসামি হযরত আলীর কোতালিরচরের বাড়িতে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় মেয়েটি। নূর মোহাম্মদ, হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফারের বিরুদ্ধে এই ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি সালিশ-দরবারে মীমাংসা করে মেয়েটির পরিবারকে এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দেন মাতবররা। এই পরিস্থিতিতে মেয়েটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে মেয়েটির সৎবাবা আশরাফ আলী।
তদন্তে দেখা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে আশরাফ আলী তার সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আমেনাকে হত্যা করে।
আশরাফ আলী জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার ক্ষোভে তাকে হত্যা করেছেন।
আশরাফ আলী শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানার মোয়াকুড়া গ্রামের কুব্বাত আলীর ছেলে। নরসিংদীর মাধবদী থানার কোতালিরচর ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামে সপরিবারে ভাড়া বাসায় থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত চালায় পুলিশ।
এর আগে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা, এবাদুল্লাহ, হযরত আলী ও গাফফার এবং সালিশ দরবার করে আমেনার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগে আহাম্মদ আলী মেম্বার, তাঁর ছেলে ইমরান দেওয়ান, প্রতিবেশী মো. আইয়ুব ও ইছাহাক ইছাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রত্যেককে আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দির একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় সৎবাবা আশরাফ আলী জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বখাটে চক্রটি আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে হত্যা করেছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

