খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত বিএনপির ২ কর্মী

সোমবার,

০২ মার্চ ২০২৬,

১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

সোমবার,

০২ মার্চ ২০২৬,

১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত বিএনপির ২ কর্মী

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ২ মার্চ ২০২৬

Google News
খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত বিএনপির ২ কর্মী

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন— মৃত ময়দান আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৬০) এবং মৃত মনছের আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৭০)। তারা দুজনই স্থানীয় বিএনপির সক্রিয় কর্মী বলে স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গোয়ালপাড়া গ্রামের প্রায় পাঁচ বিঘা সরকারি খাস পুকুরটি নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আছমত আলী (৫০) এবং ধামাইনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের (৪৮) মধ্যে প্রায় ১৫–১৬ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। দীর্ঘদিন পুকুরটি স্থানীয় মসজিদের নামে ইজারা নিয়ে আছমত আলী মাছ চাষ করলেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর সিদ্দিক তিন বছরের জন্য পুকুরটির নতুন ইজারা নেন। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সোমবার সকালে সিদ্দিকের সমর্থকরা পুকুরে মাছ আহরণের জন্য জাল ফেললে আছমত আলীর লোকজন বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ধারাল অস্ত্র, দা, হাসুয়া ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে আব্দুস সালাম সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং ইসমাইল হোসেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতাল মারা যান।

রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শামসুল আলম বলেন, “নিহত দুজনই আমাদের সক্রিয় কর্মী। দীর্ঘদিনের দখলবাজি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই হামলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, হাসপাতালে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলে হয়তো একজনের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো।

তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নাকচ করেছেন সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আকিকুন নাহার। তিনি বলেন, “রোগীকে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। মারপিটের আঘাতে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।”

রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি খাস পুকুরের ইজারা ও দখলদারিত্ব নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

রায়গঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান, মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মাসুদ রানা ও রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী জানান, বিবাদমান পুকুরটি খাস বলে তারা জানেন। উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। আদৌ খাস কিনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সারেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খাস পুকুরে মাছ ধরা কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা বলে ইউএনও জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর রাখবো। ‌

উল্লেখ্য, একই পুকুরকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালেও এক ব্যক্তি নিহত হন। সরকারি খাস সম্পদ ঘিরে বারবার প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের সজন ও এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের