অপেক্ষায় থাকবেন সাকিব আল হাসান

সোমবার,

২৬ জানুয়ারি ২০২৬,

১৩ মাঘ ১৪৩২

সোমবার,

২৬ জানুয়ারি ২০২৬,

১৩ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

অপেক্ষায় থাকবেন সাকিব আল হাসান

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:৫২, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
অপেক্ষায় থাকবেন সাকিব আল হাসান

জাতীয় দলে ফেরার প্রসঙ্গ এলে সাকিব আল হাসান কখনও উন্মুখ হয়ে ওঠেন, কখনও খোলসবন্দি। সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলে ফেরার উদগ্র বাসনার কথা বলেছেন তিনি। কিন্তু বিসিবির দিক থেকে সাড়া না পেয়ে চুপসে যেতে দেখা গেছে তাঁকে।

জাতীয় দলে ফেরা না-ফেরার আলোচনা সাকিবের কাছে এখন ক্লিশে। তাই তো শনিবার বিসিবির সভায় তাঁকে জাতীয় দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রতিক্রিয়া নেই বাঁহাতি এ অলরাউন্ডারের। বিসিবির নতুন উদ্যোগের কথা শুনে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে সাকিব লেখেন– ‘কী কথা বলব, দেখি কী হয় এরপর বলব।’

বিসিবি পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাকিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাকে জাতীয় দলের ২৭ জনের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখার ব্যাপারেও প্রস্তাব করা হয়েছে বোর্ড সভায়। শনিবার রাতের সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক আসিফ আকবর বলেছেন, সাকিবের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। এই যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হ্যাঁ বা না কোনো উত্তরই পাওয়া যায়নি সাকিবের কাছ থেকে।

তবে জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক বলেছেন, নিউইয়র্কে পৌঁছে ফোনে কথা বলেছেন তাঁর সঙ্গে। বিসিবি থেকে যোগাযোগ করা হয়নি বলে সাকিব নিশ্চিত করেছেন তাঁকে। মুখে কুলুপ এঁটে রাখায় সাকিবের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রের বর্তমান বাস্তবতায় সাকিবকে দেশে ফিরতে দেওয়া হবে কিনা– জানতে চাওয়া হলে বিসিবি সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কথা বলেছেন বোর্ড সভাপতি। সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এ কারণে বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগে বোর্ডে এভাবে আলোচনা হয়নি।’ 

সাকিবকে ফেরানোর পেছনেও রাজনীতি দেখছেন জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটে কোয়াবের প্রভাব কমাতে সাকিবকে প্রয়োজন। সে জাতীয় দলে থাকলে ক্রিকেটারদের একটা অংশ তামিম ইকবালের বলয় থেকে বেরিয়ে আসবে। তখন ক্রিকেটের কার্যক্রম চালানো কিছুটা সহজ হবে। বিসিবি কর্মকর্তারা মনে করেন, তামিম পেছন থেকে কোয়াবের কলকাঠি নাড়েন। এ কারণে ক্রিকেটারদের যৌক্তিক দাবিও মেনে নেওয়া সম্ভব হয় না।

বিসিবি-সংশ্লিষ্ট সাবেক এ অধিনায়কের বক্তব্য সত্য হলে, পাকিস্তানের বিপক্ষে মার্চের হোম সিরিজে খেলতে পারেন সাকিব। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হলে নতুন সরকারের অধীনে দেশে ফিরতে সাকিবের সমস্যা হওয়ার কথা না। আমিনুল ইসলাম বুলবুল নির্বাচিত সরকারের কথা মাথায় রেখেই হয়তো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, জাতীয় নির্বাচনের আগে সাকিবের দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। মবের শিকার হওয়ার ভয়ে এ মুহূর্তে সাকিব হয়তো দেশে ফিরতে চাইবেন না। 

২০২৪ সালের মে মাসে টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সিরিজ খেলতে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন সাকিব। দেশ থেকে সেটিই তাঁর শেষ যাওয়া। কারণ, ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ শেষ করে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন। ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ার পরও পাকিস্তান ও ভারতে টেস্ট সিরিজ খেলেছেন সাকিব। গত বছর অক্টোবরে কানপুরে  শেষ টেস্ট খেলেন তিনি। একই বছর নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টেস্ট খেলে অবসর নিতে চেয়েছিলেন সাকিব। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরোধিতার কারণে সাকিবের সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। 
 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের