ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বেশিরভাগ বাংলাদেশি সমর্থকের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় ভাগ হয়ে যাওয়া। এই দুই দেশের প্রতি সমর্থন জানাতে উদ্ভাবনী নানা পন্থার আশ্রয় নেন তারা। ব্রাজিল নিয়ে এদেশের উন্মাদনা নজর এড়ায়নি ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের। দেশটির গণমাধ্যম গ্লোবো এই আবেগি সমর্থন নিয়েই প্রকাশ করেছে বিশেষ এক প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনে তারা বেশ কয়েকটি ছবি দিয়ে লিখেছে, ‘শুধু ব্রাজিলই নয়, বিশ্বকাপে নিজেদের জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে সবুজ-হলুদ রঙে সেজে উঠেছে বাংলাদেশও। প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দক্ষিণ এশীয় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্রাজিলের পতাকা উড়তে দেখা যাচ্ছে, সাজানো হচ্ছে রাস্তা-ঘাট ও বাড়িঘর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, ব্রাজিলের পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে সমর্থন জানাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল যেন সবুজ-হলুদের রঙে রাঙানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ব্রাজিল ফুটবলের এক বিশেষ আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে।’
প্রতিবেদনে ব্রাজিলের প্রসিদ্ধ এই গণমাধ্যমটি লিখেছে, ‘ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যবর্তী দেশ বাংলাদেশে বর্তমানে ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। তবে দেশের ফুটবল অবকাঠামো খুব বেশি উন্নত নয়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম এবং দেশটি কখনোই ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশের সমর্থন গিয়ে পড়ে ব্রাজিল ও তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার দিকে।’
এরপর বাংলাদেশের ব্রাজিল ফুটবল নিয়ে উন্মাদনার শিকড় প্রসঙ্গে গ্লোবো লিখেছে, ‘বাংলাদেশে ব্রাজিল ফুটবলের জনপ্রিয়তার সূচনা হয় ১৯৬০-এর দশকে। সে সময় গ্যারিঞ্চা, পেলে ও অন্যান্য তারকাদের নেতৃত্বে ব্রাজিল বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠে আসে। পাঠ্যবইয়ের গল্প, পরে রঙিন টেলিভিশনে জিকো, সক্রেটিসসহ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিদের খেলা দেখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে।’
প্রতিবেদনে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করতে গিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে। তারা লিখেছে, ‘বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও দেখা যাচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে সবকিছুই যে উৎসবমুখর, তা নয়। সম্প্রতি দেশের হবিগঞ্জ সদর এলাকায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় প্রায় ৫০ জন আহত হন।’
সূত্র: গ্লোবো
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

