ম্যাচের তখন ৩৪ মিনিট। সতীর্থ মনিশ ডাঙ্গির পাস দুর্দান্ত এক পাস থেকে গোলের সুযোগ পেলেন রবসন রবিনহো। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের সামনে তখন শুধুই সিটি ক্লাবের গোলরক্ষক ইসহাক আলি। ডান পায়ে দারুণ এক শট নিলেন তিনি।
তবে অবিশ্বাস্যভাবে রবসনের শট ডান পায়ে সেভ দিলেন ইসহাক। ৫ মিনিট পর আরেকটি শট প্রতিহত করেন তিনি। এবার অবশ্য বসুন্ধরা কিংসের ফরোয়ার্ড কাঈকির শটে তেমন পাওয়ার ছিল না। সরাসরি হাতে গ্রিপ করেন সিটির ক্লাব।
ইসহাকের বীরত্বেই প্রথমার্ধে গোল হজম করে না সিটি ক্লাব। তবে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বসুন্ধরা কিংসের জয় আটকাতে পারেননি ইসহাকরা।
সর্বশেষ ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৭-০ গোলে ভাসিয়ে দেওয়া বসুন্ধরা আজ সিটিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ৩-০ ব্যবধানে। দলের হয়ে গোল দুটি করেছেন রবসন, এমেকা অগবুর্গ ও সৈয়দ কাজেম কিরমানি শাহ।
গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও বিরতির পরপরেই আনন্দে মাতে বসুন্ধরা কিংস। উপলক্ষ্যের মধ্যমণি হলেন রবসন। ৪৯ মিনিটে সতীর্থর সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান খেলে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। পরে ডান পায়ে সিটি ক্লাবের গোলরক্ষক ঠান্ডা মাথায় পরাস্ত করেন তিনি।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া সিটি ৬৯ মিনিটে সুযোগও পায়। তবে শায়েক দোস্তর হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় প্রতিহত করেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। বিপরীতে ৭১ মিনিটে বক্সের মধ্যে এমেকাকে ফাউল করে বসেন সিটির এক খেলোয়াড়। সফল স্পটকিক নিয়ে বসুন্ধরা কিংসকে ২-০ লিড এনে দেন এমেকা।
যোগ করা সময়ে সিটির জালে শেষ পেরেক মারেন রবসনের বদলি নামা কাজেম শাহ। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে তার করা গোলটি ছিল দেখার মতো। বক্সের কাছাকাছি থেকে মাটি কামড়ানো এক শট নেন কাজেম। গোলরক্ষক শুধু ডান দিকে ঝাঁপিয়েই পড়ার সুযোগ পেলেন।
পরে রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ফুটবল লিগে নাম লেখানো সিটি ক্লাবের জয়রথ থামে। কেননা লিগের প্রথম তিন ম্যাচের কোনোটিতেই হার ছিল না তাদের। দুই জয়ের বিপরীতে এক ড্র। অন্যদিকে বসুন্ধরার জয়রথ ছুটছে। তিন ম্যাচে অপরাজিত। মৌসুম শুরু করেছিল আরামবাগের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে। ৭ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে বসুন্ধরা কিংস। ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ পুলিশ ও মোহামেডান।
মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়ামে পিডব্লিউডিকে ২-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে ধরে ফেলেছে মোহামেডান। পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানের কারণেই দুইয়ে সাদাকালোরা।
জয়ের দুটি গোলই দ্বিতীয়ার্ধে পেয়েছে মোহামেডান। ৪৬ মিনিটে প্রথম গোল করেন সুলেয়মান দিয়াবাতে। এমানুয়েল সানডের ক্রসে হেড থেকে গোলটি করেন তিনি। ৭৮ মিনিটের গোলটিও আসে হেডে। এবারের নায়ক বদলি নামা মোহাম্মদ রাকিব। এতে টানা তিন ম্যাচে তৃতীয় জয় পায় মোহামেডান।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

