কেউ ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলছেন, কেউ আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহারে বদলে দিচ্ছেন গ্রামীণ কৃষির চিত্র। কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা ও গ্রামীণ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘১০০ নারী হিরো’ উদ্যোগে জায়গা পেয়েছেন চীনের দুই নারী।
তারা হলেন চীনের হুবেই প্রদেশের ছিছুন কাউন্টির মক্সিবাস্টন থেরাপিস্ট ইউ ছিনসিউ এবং হুনান প্রদেশের ইউয়েয়াং কাউন্টির ফেংরুই কৃষিযন্ত্র পেশাদার সমবায়ের প্রধান তোং মিনফাং। তাদের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও লক্ষ্য এক— গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া।
ইউ ছিনশিউ চীনের জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃত অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ছিছুন মক্সিবাস্টন থেরাপির একজন দক্ষ অনুশীলনকারী। মক্সিবাস্টন হলো ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির একটি ধরন, যেখানে ভেষজ উপাদান পুড়িয়ে তাপ প্রয়োগ করা হয়। এ পদ্ধতিকে ঘিরে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি।
গত দুই দশকে ৩০ হাজারেরও বেশি পেশাদার মক্সিবাস্টন থেরাপিস্টকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ইউ। তার উদ্যোগে হাজারো মানুষ চাকরি কিংবা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন। এর মাধ্যমে বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আয় বাড়ানোর পথ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, তোং মিনফাং একসময় সফল করপোরেট পেশাজীবী ছিলেন। পরে নিজের এলাকার কৃষির উন্নয়নে কাজ করতে ফিরে আসেন জন্মভূমিতে। বর্তমানে তিনি ইউয়েয়াং কাউন্টির রানশেং রাইস প্রফেশনাল কো-অপারেটিভ এবং ফেংরুই এগ্রিকালচারাল মেশিনারি প্রফেশনাল কো-অপারেটিভের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তার উদ্যোগে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে শস্য উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় কাজ চলছে। পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের জন্য কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই তার কাজের অন্যতম লক্ষ্য।
২০২৬ সালকে ‘আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ’ ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় নারীদের অবদান তুলে ধরা এবং অর্থায়ন, জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় সেবায় তাদের প্রবেশাধিকার বাড়াতে নীতি ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
এ উপলক্ষে এফএও চালু করেছে ‘১০০ নারী হিরো’ উদ্যোগ। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ স্বীকৃতির জন্য ১৩১টি সদস্যদেশ থেকে ৬০৯টি মনোনয়ন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই ও একাধিক পর্যায়ের মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত হন নারীরা।
আগামী ১৫ অক্টোবর রোমে এফএও’র সদর দপ্তরে বিশ্ব খাদ্য ফোরামের অংশ হিসেবে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ৯৯ জনের নাম রয়েছে; বাকি একজনের নাম অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হবে। সূত্র: সিএমজি
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

