রোববার,

১৪ জুলাই ২০২৪,

২৯ আষাঢ় ১৪৩১

রোববার,

১৪ জুলাই ২০২৪,

২৯ আষাঢ় ১৪৩১

Radio Today News

আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আরসা`র টর্চার সেলের প্রধানসহ গ্রেফতার ২

সারওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:১১, ২৭ অক্টোবর ২০২৩

আপডেট: ১৪:১৫, ২৭ অক্টোবর ২০২৩

Google News
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আরসা`র টর্চার সেলের প্রধানসহ গ্রেফতার ২

আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আরসা`র টর্চার সেলের প্রধানসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে

কক্সবাজারের উখিয়া থেকে দেশি-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র সহ ডিজিএফআই এর কর্মকর্তা হত্যা মামলার পলাতক আসামী মায়ানমারের সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা'র ওলামা বডি ও টর্চার সেলের প্রধান ওসমান প্রকাশ সালমান মুরব্বী’ ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দেয়া তথ্যে উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাঁর দেয়া তথ্যে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মধুরছড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন পাহাড়ে আরসার গোপন টর্চার সেলের সন্ধান পায় র্যাব। সেখান থেকে টর্চার সেলের সদস্য মোঃ ইউনুস (২৪) গ্রেফতার করা হয়।

ওই সময় টর্চার সেল থেকে ১টি নাইন এম এম  বিদেশী পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ৪টি একনলা বন্দুক, ২টি এলজি, ৫ রাউন্ড ১২ বোর কার্তুজ এবং টর্চার সেলের সরঞ্জামাদি ১টি কুড়াল, ৩টি বিভিন্ন সাইজের প্লাস, ১টি কাঠের লাঠি, ১টি স্টিলের লাঠি, ১টি করাত, ১টি নাম চাকু, ১টি লোহার রড, ১টি লোহার দা, ১টি হ্যাংগিং হুক, ১টি সিসর, ৪টি তালা, ৩টি বড় লোহার পেরেক, ২টি লোহার শিকল, ১টি রশি, ১টি কুপি বাতি এবং সুইসহ সুতার ১টি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়।

ধৃত আরসা কমান্ডার সালমান মুরব্বী থাইংখালী শরনার্থী ক্যাম্পের ব্লক ডি/৪ এর মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে। আর আরসা সদস্য ইউনুছ কুতুপালং ক্যাম্পের ব্লক ৫ এর সৈয়দ হোসেনের ছেলে।

শুক্রবার দুপুরে র‍্যাব ১৫ এর মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.আবু সালাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে,  আরসার ওলামা বডির প্রধান সালমান মুরব্বী ২০১৭ সালে সপরিবারে অবৈধপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে থাইংখালীর শরণার্থী ক্যাম্প-১৩ এর ব্লক-ডি/৪ এ বসবাস শুরু করেন। পরে ২০১৮ সালে তিনি আরসার ওলামা কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য ও কমান্ডার মৌলভী মোস্তাক আহম্মদ এবং মৌলভী আবু রায়হান এর  মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠনটিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি অস্ত্র চালনাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে তিনি ১৩ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক জিম্মাদার, হেড জিম্মাদার এবং  ক্যাম্পের আরসার ওলামা বডির প্রধান হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে তার নির্দেশনায় শরণার্থী শিবিরে  মৌলভী লাল মোহাম্মদ এর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের আরসার দাওয়াত গ্রুপ তৈরি করা হয়। গ্রুপটি সাধারণ রোহিঙ্গাদেরকে প্রলোভন দেখিয়ে অথবা জোরপূর্বক আরসায় যোগদান করাতেন। তার এই কার্যক্রমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা আরসায় যোগদান করেছেন বলে জানা যায়। এজন্য তিনি প্রতি মাসে আরসা হতে মোটা অংকের টাকা পেতেন।

এছাড়া তাঁর মাধ্যমেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওলামা বডির অন্যান্য সদস্যদের জন্য নির্ধারিত টাকা আসতো বলে জানা যায়। তিনি আরসা প্রধান আতাউল্লাহ ও আরসার সেকেন্ড ইন কমান্ড ওস্তাদ খালেদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তিনি আরসার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত ছিল। এসব গ্রুপসমূহের মাধ্যমে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে শরণার্থী শিবিরে আরসার কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করতেন। 
বিজ্ঞপ্তি আরো বলা হয়েছে, ক্যাম্পে খুন, হামলা,  ও নাশকতা এবং অপহরন সহ সকল ধরনের অপরাধী কাজ করতে আরসা প্রধান আতাউল্লাহর অনুমতি নিতেন সালমান মুরব্বী। এর পর তার নেতৃত্বেই ক্যাম্প ও আশেপাশে সকল অপকর্ম পরিচালনা করতেন আরসা সন্ত্রাসীরা। এছাড়াদ ক্যাম্পে আধিপত্য ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য আরসা প্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশনায়  ২০১৯ সালের শেষের দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভিতরে ও ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড় ও গহীন জঙ্গলে টর্চার সেল কাচারী স্থাপন করে সংগঠনটি। প্রথমে সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান আরসার কমান্ডার আবু আনাছ।  পরে মৌলভী আকিজ ওলামা বডির প্রধানের দায়িত্ব পান এবং চলতি বছরের শুরুতে তিনি মায়ানমারে চলে গেলে ধৃত সালমান মুরব্বী ওলামা বডির প্রধান ও  টর্চার সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

র‍্যাব ১৫ এর মুখপাত্র মো. আবু সালাম চৌধুরী বলেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ঠ আইনে মামলা দায়ের করে উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

চলতি বছরে আরসা ৭৩ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।

রেডিওটুডে নিউজ/এসবি

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের