শিকারিদের পাতা ফাঁদে গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘ চিকিৎসার পর্ব শেষ করে অবশেষে নিজের আপন নিবাস সুন্দরবনে ফিরে গেছে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার (বাঘিনী)।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১টা ৫ মিনিটে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধার মানিক এলাকায় বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়। এই বিশেষ মুহূর্তে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করার পর প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সরকার সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতার ওপরও তিনি জোর দেন। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, একটি আহত বাঘিনীকে সফলভাবে সুস্থ করে আবারও তার প্রাকৃতিক আবাসে ফিরিয়ে দেওয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধার মানিক এলাকায় শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়েছিল এই বাঘিনীটি। পরে ট্রাংকুলাইজার বন্দুক ব্যবহার করে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় রশির সাথে টানাটানিতে বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ের প্রায় তিন ইঞ্চি মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং সেখানে পচন ধরেছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনার বয়রার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়, যেখানে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিবিড় তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ চিকিৎসায় সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘিনীটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তার ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাভাবিক ক্ষিপ্রতাও ফিরে এসেছে এবং সে এখন পুরোপুরি নিজে শিকার করতে সক্ষম। আনুমানিক ৯ থেকে ১০ বছর বয়সী এই বাঘিনীটির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে গত ২১ মে বাঘ গবেষক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের একটি ভার্চুয়াল সভায় তাকে জুলাই মাসে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, ঠিক যে এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল, আজ সেখানেই তাকে অবমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বাঘিনীটির সুন্দরবনে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া বইছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

