বেরিয়ে এলো স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যার ভয়াবহ কাহিনি

রোববার,

৩০ আগস্ট ২০২৬,

১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

রোববার,

৩০ আগস্ট ২০২৬,

১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

বেরিয়ে এলো স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যার ভয়াবহ কাহিনি

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ১১ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৯:৩২, ১১ জুলাই ২০২৬

Google News
বেরিয়ে এলো স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যার ভয়াবহ কাহিনি

খুলনায় বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে মারধরের ঘটনায় নির্জনার মৃত্যু হয় বলে তার মা জবানবন্দিতে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

নিহত নির্জনা খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান শনিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা করে।

পুলিশ জানায়, তদন্তের শুরুতে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। খুলনা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নির্জনার মা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন মেয়ের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় ঘরের ভেতরের শোরগোল শুনে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাবা আলিম হোসেন আকাশ এগিয়ে আসেন। পরে মেয়েকে কাঠের লাকড়ি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে নির্জনার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেন। পরে মরদেহ ছেঁড়া লুঙ্গি ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ওই ভবনের সামনে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, নির্জনার একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং সেই পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে তার মা জানিয়েছেন।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, নির্জনার বাবা-মা দুজনের মাদকাসক্তির বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত বাবা আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের