দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এক দিন আগে যেখানে ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল, গতকাল শুক্রবার তা কমে পাঁচটিতে নেমেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি মূলত দেশের ভেতর ও উজানে বৃষ্টির পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ শনিবার এবং আগামীকাল রোববারও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, বৃহস্পতিবারের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উজানে কোথায় কত বৃষ্টি হয়, তার ওপর আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদ মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদনদীর পানি বাড়ছে, ৪৩টিতে কমছে এবং পাঁচটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। দেশে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, উজান ও দেশের ভেতরে বৃষ্টির প্রবণতাই আগামী কয়েক দিনের নদীর পানির গতিপ্রকৃতি এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, প্রায় পাঁচ দিন ধরে দেশে বৃষ্টি হচ্ছে। শুরুতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হলেও এখন মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠায় দেশের প্রায় সব এলাকাতেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকাতেও। শুক্রবার সকাল থেকে মতিঝিল, নয়াপল্টন, মিরপুর, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সড়কে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে, কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। পথচারীদের অনেককে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও টানা বৃষ্টির কারণে কোথাও আকস্মিক বন্যা, কোথাও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

