ধেয়ে আসছে তুফান, সতর্কতা জারি

শুক্রবার,

১০ জুলাই ২০২৬,

২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

শুক্রবার,

১০ জুলাই ২০২৬,

২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

Radio Today News

ধেয়ে আসছে তুফান, সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০৮, ৯ জুলাই ২০২৬

Google News
ধেয়ে আসছে তুফান, সতর্কতা জারি

ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে চীন ও তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ১৯৮৭ সালের পর আয়তনের দিক থেকে এটিই হতে পারে তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুন। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় চীন ও তাইওয়ানে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তাইওয়ানে প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ২৯ হাজার সেনাসদস্য এবং উপকূলীয় এলাকায় জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড়গুলোর একটি হতে পারে টাইফুন বাভি। এমন সময় এটি আঘাত হানতে যাচ্ছে, যখন টাইফুন মায়সাকের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে চীনের বিভিন্ন অঞ্চল।

তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তাইপের আশপাশের উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সেনাসদস্যকে প্রস্তুত রেখেছে।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, ২০২৪ সালের কং-রে টাইফুনের পর এটিই হতে পারে তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। ওই টাইফুনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। আবহাওয়াবিদদের মতে, আয়তনের দিক থেকে ১৯৮৭ সালের পর এটিই সবচেয়ে বড় টাইফুন হতে পারে।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত টাইফুন বাভি উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে আগামী শনিবার সন্ধ্যায় দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাস কর্মকর্তা জেসন চ্যাং বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় আকারের ঝড় খুব কমই দেখা গেছে। তার ভাষায়, ১৯৮৭ সালের পর আয়তনের দিক থেকে এটিই তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুন হতে পারে।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে টাইফুন মায়সাকের আঘাতে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এখনও নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীন, জাপান ও তাইওয়ান ক্রমেই আরও শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। এ বছর এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং শক্তিশালী টাইফুনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা অ্যাকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে বাভির বাতাসের গতি কিছুটা কমতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এটি তাইওয়ান ও পূর্ব চীনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ঝড় হিসেবেই থাকবে।

এদিকে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ওকিনাওয়া অঞ্চলে প্রবল বাতাস, বন্যা, ভূমিধস ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে।

টাইফুন মায়সাকের আগের আঘাতে চীনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বেইজিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুয়াংসির বিনইয়াং কাউন্টির একটি খামারে দুই দিন পানির নিচে ডুবে থাকার পর অসংখ্য শূকর মারা গেছে।

গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, গুয়িগাং চিড়িয়াখানায় বন্যার পানিতে তিনটি সিংহ মারা গেছে। এছাড়া দুটি জেব্রা, চারটি সজারু, অসংখ্য টিয়া পাখি এবং উত্তর আমেরিকার দুটি র্যাকুনসহ প্রায় ১০০টি প্রাণী এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

ধেয়ে আসা টাইফুনের কারণে জাপান এয়ারলাইন্স শুক্রবারের ৪৮টি অভ্যন্তরীণ ও দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ৬১০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়বেন। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজও শুক্রবার ৩৪টি এবং শনিবার আরও ৩৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এতে দুই দিনে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির ওপর অবস্থান করায় টাইফুন বাভি বিপুল শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে। তার মতে, উপকূলে আঘাত হানলে এর ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের