‘গতকালও বাবুর সঙ্গে কথা হয়েছিল। আজ ওর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বেলা ১১টার দিকে একটি ফোনকল পাই, যেখানে জানানো হয় আমার ভাই বাবু মারা গেছে।’ -এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন কলকাতার নিউ মার্কেটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবুর (৩৭) বড় ভাই মোহাম্মদ আলী।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে দেড়টার দিকে কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়া আট বাংলাদেশিদের মধ্যে সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আহম্মেদ বাবুও রয়েছেন। তিনি একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী ছিলেন। আমিনবাজার জমিদার মার্কেটে ‘কিউট কসমেটিকস’ নামে তার একটি দোকান রয়েছে।
নিহত বাবুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ব্যবসার কাজে কসমেটিকস কিনতে মাঝেমধ্যেই ভারতে যেতেন বাবু। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট তিনি কলকাতা যান এবং বুধবার (আজ) তার দেশে ফেরার কথা ছিল।
বাবু আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার মৃত আদম আলীর ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট বাবু স্থানীয় শিকদার পাড়ায় নিজেদের চারতলা বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার সংসারে রোজা (১২) নামের এক মেয়ে এবং ছোয়াদ (৬) নামের এক ছেলে রয়েছে।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বাবুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবুর মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন। নিহতের মা ও স্ত্রী দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বিলাপ করছেন; প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
বড় ভাই মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গতকালও বাবুর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। আজ ওর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সকাল ১১টার দিকে একটি ফোনকল পাই, যেখানে জানানো হয় কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে আমার ভাই মারা গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে এই খবর বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠানো ছবি দেখে নিশ্চিত হই, আমার ভাই আর আমাদের মাঝে নেই।’
দ্রুত ভাইয়ের মরদেহ সরকারি উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জোর দাবি জানান তিনি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

