দরজা খুলতেই ধোঁয়া, কার্নিশে আটকে ছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি

বুধবার,

১৯ আগস্ট ২০২৬,

৪ ভাদ্র ১৪৩৩

বুধবার,

১৯ আগস্ট ২০২৬,

৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড

দরজা খুলতেই ধোঁয়া, কার্নিশে আটকে ছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ১৯ আগস্ট ২০২৬

Google News
দরজা খুলতেই ধোঁয়া, কার্নিশে আটকে ছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেল। রাত দেড়টার পর একটি কক্ষের দরজায় জোরে ধাক্কা দেন কেউ। ভেতরে ছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি সোমাইয়া আখতার ও রেজাউল ইসলাম। দরজার ওপাশে আগুনের নমুনা দেখতেই দুজন জানালা দিয়ে বেরিয়ে কার্নিশে আশ্রয় নেন।

হোটেলটি নিউমার্কেট এলাকায় চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায়। ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহখানেক আগে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় বেড়াতে গিয়েছিলেন সোমাইয়া ও রেজাউল। শিখা ইন হোটেলে ওঠেন দুইদিন আগে। 

মঙ্গলবার গভীর রাতে হোটেলটিতে আগুন লাগে। সোমাইয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ তাদের কক্ষের দরজায় কেউ জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। ওই সময় তিনি জেগে ছিলেন। ধাক্কার শব্দে ঘুম ভাঙে রেজাউলের। দুজন বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুলে দেখেন বারান্দা ধোঁয়ায় ভরে গেছে।

চিৎকার, ধোঁয়া দেখেও সে সময় মাথা ঠান্ডা রেখেছিলেন রেজাউল। দ্রুত চিন্তা করে ঠিক করেন, দরজা দিয়ে নয়, জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন। স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান জানালার কাছে। নেমে যান কার্নিশে। এরপরের ঘটনার বর্ণনা দেন সোমাইয়া। বলেন, ‘কার্নিশে দাঁড়িয়ে হেল্প, হেল্প, আগুন, আগুন বলে চিৎকার করছিলাম।’

ধোঁয়ার কারণে তিনতলার কার্নিশ থেকে ওই সময় রাস্তা ভালভাবে দেখা যাচ্ছিল না। নিচে থেকে ওপরে কারও অবস্থান বোঝার উপায় ছিল না। তাই মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন এই দম্পতি। সোমাইয়া বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিলেন, তাদের ডেকে আমাদের বিপদের কথা বলি। প্রায় আধা ঘণ্টা আমরা কার্নিশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’ পরে তিনতলার কার্নিশ থেকে দুজনকে মইয়ের মাধ্যমে নামান দমকলকর্মীরা।

সোমাইয়া-রেজাউল ছাড়াও ওই ভবনের অন্য হোটেলগুলোতে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ছিলেন। তারা চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে ভারতে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়জন নিহতের খবর জানা গেছে। তাদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের