ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মসজিদের ইমাম

সোমবার,

১৭ আগস্ট ২০২৬,

২ ভাদ্র ১৪৩৩

সোমবার,

১৭ আগস্ট ২০২৬,

২ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মসজিদের ইমাম

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:২৮, ১৭ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৪:৫৪, ১৭ আগস্ট ২০২৬

Google News
ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মসজিদের ইমাম

ফজরের নীরব স্নিগ্ধতা ভেঙে সৃষ্টিকর্তার ইবাদতে মাথা নোয়ানোই যেন হয়ে রইল জীবনের শেষ কাজ। পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তরুণ হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। জীবনের শেষ মুহূর্তটি এমন পুণ্যময় সেজদাতেই স্থির হয়ে থাকবে, তা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি অনুরাগী মুসল্লিরা।

সোমবার ভোরে সদর উপজেলার শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে এই অত্যন্ত আবেগঘন ও মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মাত্র দেড় বছর ধরে ওই মসজিদে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ইমামতির দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

প্রতিদিনের মতোই সোমবার ভোরে অন্ধকার ঠেলে মসজিদে পৌঁছান হাফেজ আতাউল্লাহ। সুন্নতের নিয়ত বেঁধে দাঁড়ান মোসাল্লায়। প্রথম রাকাত শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় যান তিনি। কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও সেজদা থেকে আর মাথা তোলেননি এই তরুণ ইমাম। দীর্ঘ সময় সেজদারত অবস্থায় অপরিবর্তিত থাকতে দেখে উপস্থিত মুসল্লিদের মনে খটকা লাগে। কাছে গিয়ে ডাকতেই অনুধাবন করেন, পার্থিব জীবনের সমস্ত মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তাঁদের প্রিয় ইমাম।

নিহত হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজার সংলগ্ন এলাকার হাজী বাড়ির মাওলানা আব্দুস সালামের একমাত্র সন্তান। পটুয়াখালীর জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করা আতাউল্লাহর সংসারে রয়েছে দুই দুটি দুধের শিশু সন্তান।

পটুয়াখালীর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের ইমাম হিসেবে আতাউল্লাহ ছিলেন এক অনন্য ভালোবাসার নাম। ধর্মীয় দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর ছিল হৃদয়ের গভীর সম্পর্ক। তাঁর শান্ত স্বভাব, অমায়িক ব্যবহার ও সদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারা অল্প দিনেই তাঁকে এলাকার প্রতিটি মানুষের আপন করে তুলেছিল।

এক প্রতিবেশী অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আতাউল্লাহ কতটা ভালো ও নিঃস্বার্থ মানুষ ছিলেন তা বলে বোঝানো যাবে না। সবার সঙ্গে হেসে কথা বলতেন, ধার্মিক জীবনযাপন করতেন। এমন মানুষের আকস্মিক বিদায় আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

ইমামের মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, বৃদ্ধ বাবার তিনি ছিলেন একমাত্র অবলম্বন ও সন্তান। পেছনে রেখে গেছেন দুটি নিষ্পাপ ছোট শিশু সন্তানকে। একমাত্র ছেলেকে এভাবে হঠাৎ হারিয়ে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা ও শোকে পাথর হয়ে গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের সামনে হাফেজ আতাউল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আসরের নামাজের পর তাঁর নিজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। সেজদারত অবস্থায় পরম করুণাময়ের ডাকে সাড়া দেওয়া এই নিষ্পাপ ইমামকে অশ্রুসজল নয়নে শেষ বিদায় জানিয়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের