চুল পড়া কমাতে অনেকেই তেল, হেয়ার সিরাম বা বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন। তবে শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টির ঘাটতি থাকলেও অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রার মতে, বিশেষ করে আয়রনের মজুদ কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব, জিঙ্ক ও কপারের ঘাটতি চুল পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাত্রা বলেন, চুলের গোড়া থেকে নিয়মিত চুল ঝরে পড়া কখনো কখনো শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতির একটি সংকেত হতে পারে। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গোড়ার শক্তি ধরে রাখতে শরীরের পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রয়োজন।
আয়রনের মজুদ কমে গেলে
শরীরে আয়রনের মজুদ বোঝাতে ফেরিটিন গুরুত্বপূর্ণ। ফেরিটিনের মাত্রা কম থাকলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকতে পারে। আয়রন শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতি হলে চুলের ফলিকলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং চুল পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। আয়রনের ঘাটতি পূরণে হালিম বীজ, লাল শাক, বাজরা ও তিলের মতো খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ লেবু খেলে আয়রন শোষণে সহায়তা করতে পারে।
প্রোটিনের ঘাটতি
চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। তাই খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে চুলের বৃদ্ধি ও গঠনে প্রভাব পড়তে পারে। প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে ডিম, মুগ ডাল, পনির ও গ্রিক দই খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মাছ, মাংস, দুধ ও বিভিন্ন ডালও দৈনন্দিন খাবারে রাখা যায়।
জিঙ্কের অভাব
চুলের ফলিকলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও কোষ তৈরিতে জিঙ্কের ভূমিকা রয়েছে। শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি থাকলে চুলের গোড়ার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। কুমড়োর বীজ, তরমুজের বীজ, ছোলা ও কাজুবাদামে জিঙ্ক পাওয়া যায়। তবে শুধু চুল পড়ছে বলেই নিজের ইচ্ছায় জিঙ্কের সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে পরীক্ষার মাধ্যমে ঘাটতি শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কপারের ঘাটতিও কারণ হতে পারে
তামা বা কপার শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন হয়। চুলের গঠন ও রঙের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। কপারের ঘাটতি থাকলে চুলের স্বাভাবিক গঠনে প্রভাব পড়তে পারে। কালো তিল, পোস্তদানা, কাঠবাদাম ও রাজমায় কপার পাওয়া যায়।
শুধু তেল ব্যবহার করলেই সমাধান নয়
পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রার মতে, শরীরের ভেতরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে শুধু চুলে তেল বা সিরাম ব্যবহার করে সমস্যার মূল কারণ দূর করা সম্ভব নাও হতে পারে। চুলের স্বাস্থ্যের জন্য বাইরে থেকে যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। তবে সব ধরনের চুল পড়ার কারণ পুষ্টির ঘাটতি নয়। বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, কিছু ওষুধ এবং মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার কারণেও চুল পড়তে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
হঠাৎ করে অনেক বেশি চুল পড়া শুরু হলে, মাথার নির্দিষ্ট জায়গায় চুল উঠে গেলে, চুলের সঙ্গে ভ্রু বা শরীরের অন্য অংশের লোমও পড়তে থাকলে কিংবা কয়েক মাস ধরে সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক রক্তে আয়রন, ফেরিটিন, জিঙ্কসহ বিভিন্ন পুষ্টির মাত্রা পরীক্ষা করতে পারেন। কারণ পরীক্ষা ছাড়া কোন পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
চুল পড়া বন্ধ করতে নিজের ইচ্ছায় একসঙ্গে একাধিক ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাবার নিশ্চিত করা এবং ঘাটতি থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে তা পূরণ করাই নিরাপদ উপায়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

