বিশ্বের বৃহত্তম পানি স্থানান্তর প্রকল্পটি রয়েছে চীনে। এর দক্ষিণ থেকে উত্তরে পানি স্থানান্তর প্রকল্পের প্রধান পানির উৎস তানচিয়াংখৌ জলাধারের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে একটি সমন্বিত ও বুদ্ধিমান পানি মান পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক দিনরাত কাজ করছে।
বহুমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই নেটওয়ার্কটি স্থলভাগের স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণকেন্দ্র, পানির ওপর থাকা চালকবিহীন নৌযান, আকাশে থাকা ড্রোন এবং মহাকাশে থাকা রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইটকে সমন্বয় করে। এর ফলে জলাধারের পানির মানের ওপর সার্বিক নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জলাধারটি মূলত মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশে অবস্থিত। এটি বেইজিংয়ের পানীয় জলের একটি বড় অংশ সরবরাহ করে। বিস্তৃত পানি স্থানান্তর প্রকল্পের মাধ্যমে এই পানি ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে উত্তরে পৌঁছায়।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন চাংচিয়াং পানিসম্পদ কমিশনের কর্মকর্তা ওয়াং হাইওয়েই জানান, এখন পর্যন্ত তানচিয়াংখৌ জলাধার এলাকা এবং এতে পানি সরবরাহকারী ১৬টি প্রধান নদীতে ২৩টি স্বয়ংক্রিয় পানি মান পর্যবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
প্রকল্পের মধ্যপথের শুরুর স্থান থাওছা খালমুখের পাশে একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে একাধিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র নীরবে ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। পানির পাম্প প্রতি চার ঘণ্টা পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নমুনা সংগ্রহ করে। এতে প্রতিদিন ছয় সেট পর্যবেক্ষণ তথ্য তৈরি হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় পাঠানো হয়। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে নমুনা সংগ্রহকারী ইউনিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নমুনা ২৪ ঘণ্টার জন্য সংরক্ষণ করে। কেন্দ্রটিতে অনলাইন বুদ্ধিমান প্ল্যাঙ্কটন পর্যবেক্ষণব্যবস্থাও রয়েছে।
দক্ষিণ-থেকে-উত্তরে পানি স্থানান্তর প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের পানিসমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চল থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উত্তরাঞ্চলে পানি পৌঁছে দেওয়া হয়। জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী, একসময় উত্তরাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ ‘চরম পানিসংকটের’ মুখোমুখি ছিল।
তিনটি রুট নিয়ে পরিকল্পিত এই প্রকল্পটি চীনের চারটি প্রধান নদী অববাহিকা—ইয়াংজি, হুয়াইহ্য, ইয়োলো ও হাইহ্যজুড়ে বিস্তৃত।
জলাধারটি বিশাল এবং এর তীররেখাও দীর্ঘ। তাই পানির নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে নমুনা সংগ্রহের প্রচলিত ‘পয়েন্টভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ পদ্ধতি পুরো এলাকার ওপর নজরদারির জন্য যথেষ্ট নয়। বর্তমানে হাইপারস্পেকট্রাল পানি মান পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় জলভাগের পানির মানের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে শৈবালের বিস্তার ও পানি দূষণের ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পানি স্থানান্তর প্রকল্পের মধ্য রুটে ভূপৃষ্ঠের পানির মান ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় শ্রেণি বা তার চেয়ে ভালো পর্যায়ে রয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

