লক্ষ্মীপুরে রামগতি ও কমলনগরে কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষ

বুধবার,

১০ জুন ২০২৬,

২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বুধবার,

১০ জুন ২০২৬,

২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Radio Today News

আহত-৩০,জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির গাড়িসহ ৫ গাড়ি ভাংচুর

লক্ষ্মীপুরে রামগতি ও কমলনগরে কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:১৩, ২২ জুন ২০২১

আপডেট: ০০:২৬, ২২ জুন ২০২১

Google News
লক্ষ্মীপুরে রামগতি ও কমলনগরে কয়েকটি কেন্দ্রে  সংঘর্ষ

ছবি: রেডিও টুডে

জালভোট,কেন্দ্র দখল,হামলা,সংঘর্ষ ও ভাংচুরের মধ্যে দিয়ে লক্ষ্মীপুরে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

ভোট চলাকালীন সময়ে দুপুরে তোরাবগঞ্জের উত্তর চরপাগলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী  ফয়সাল আহমদ রতন ও আওয়ামীলীগের প্রার্থী মির্জা আশ্রাফুল জামাল রাসেল সমর্থকদের মধ্যে ধায়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়।

এসময় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর গাড়িসহ ৫টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। পরে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এর আগে কেন্দ্রের বাইরে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া মধ্য চরপাগলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,তোরাবগঞ্জ ইসলাম পাড়া আনসার আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ছবি: রেডিও টুডে

অন্যদিকে রামগতির পোড়াগাছার  কোডেক কলোনীর নোমানাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রেও সংঘর্ষ হয়। এসময় ৫জন আহত হয়। একই উপজেলার চররমিজ ইউপির উত্তর পূর্ব চর আফজাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,আজাদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও চররমিজ দক্ষিন পশ্চিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে হামলা,পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষে আরো ১০জন আহত হয়। আহতদের রামগতি,কমলনগর ও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া চরবাদাম,হাজিরহাট ও চরফলকন ইউপির কয়েকটি কেন্দ্রে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।

তবে বিদ্রোহী  ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রতিটি ইউপির ভোট কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কা সিল মারা অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া পথে পথে ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা ও মারধর করা হয়। এদিকে তোরাবগঞ্জ ইউপির আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সাল আহমদ রতন অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ, প্রিজাইডিং অফিসারের নেতৃত্বে নৌকা মার্কা সিল মারে।  এসব বিষয়ে অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ হয়নি। এছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে জালভোট দিতে বাধা দেয়ায় কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে নৌকার সমর্থকরা। এছাড়া আমার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এতে কমপক্ষে ২০জন গুরুতর আহত হয়।

তবে নৌকার প্রার্থী মির্জা আশ্রাফুল জামাল রাসেলের দাবী, বিনা উস্কানীতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রতনের লোকজন নৌকা সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়।

একই অভিযোগ করে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসা ভোটার রহিম উদ্দিন, বিলকিছ বেগম, ছালামত উল্যাহসহ অনেকে বলেন, “প্রকাশ্য নৌকা মার্কা সিল মারতে হয়। প্রছন্দের কোন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি। এটি কোন ভোট নয়, যেন জাল  ও কেন্দ্র দখলের মহাসৎসব চলছে।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মধ্য চরপাগলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবদুল কুদ্দুস জানান,  “অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন হচ্ছে। বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”

কমলনগর ও রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ মোসলেহ উদ্দিন ও সোলাইমান উদ্দিন জানান, কয়েকটি কেন্দ্রে বিক্ষপ্তভাবে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের