মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে মা’ও নিখোঁজ, মরদেহ মিলল গৃহশিক্ষিকার বাসায়

শুক্রবার,

১৬ জানুয়ারি ২০২৬,

৩ মাঘ ১৪৩২

শুক্রবার,

১৬ জানুয়ারি ২০২৬,

৩ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে মা’ও নিখোঁজ, মরদেহ মিলল গৃহশিক্ষিকার বাসায়  

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:০৩, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে মা’ও নিখোঁজ, মরদেহ মিলল গৃহশিক্ষিকার বাসায়  

নিখোঁজের ২১ দিন পর ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দী মুক্তিরবাগ ডায়াবেটিস বাজার এলাকা থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। বৃহস্পতিবার রাতে বাজারের শামীম আহমেদের পাঁচ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।   

রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহমেদ পেশায় একজন মুহুরি। তিনি জানান, তার স্ত্রী ও সন্তান ২৬ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। থানায় অভিযোগ করার পরও স্ত্রী সন্তানকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ একটি অপহরণ মামলা করা হয়। ওই মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। 

তিনি জানান, তার মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তারের বাসায় গিয়ে পড়ত। মিম আক্তার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় শামীম আহমেদের মালিকানাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। মিম আক্তারের বাসায় ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মিম আক্তার প্রাইভেট পড়তে যায়। পড়া শেষ করে বাসায় না ফিরলে তার মা রোকেয়া রহমান তাকে খুঁজতে বের হয়। একই সময় রোকেয়া রহমানও নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে মা-মেয়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন এলাকায় খোজাখুজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শাহীন আহমেদ জানান, সন্ধান না পেয়ে ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার রাতে গৃহশিক্ষিকা মিমের বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটটি তল্লাশি চালায়। এ সময় খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের অর্ধগলিত মরদেহ এবং বাথরুমের ছাদ থেকে শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. রনি চৌধুরী বলেন, ‘লোকমুখে খবর পেয়ে গৃহশিক্ষিকা মিমের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। ঘরে খাটের নিচ থেকে মা রোকেয়ার ও বাথরুমের ছাদ থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এর আগে, মা-মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় ২৫ ডিসেম্বর রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এ বিষয়ে ওসি এম সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের