দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দাম আরও এক দফা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী সোমবার (২ মার্চ) থেকে নতুন এই উচ্চমূল্য কার্যকর হচ্ছে।
ত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা এবং রুপার দাম ১১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের সংকট বিবেচনায় নিয়ে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকায় দেখা যায়, সবচেয়ে উন্নত মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি প্রদান করতে হবে, যা গহনার নকশা ও মানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপার দামও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৯৯৮ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৩১৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৩৪ বার এবং রুপার দাম ২০ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাম বৃদ্ধির চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই স্বর্ণ ও রুপার বাজারে অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ বছর স্বর্ণের দাম ২২ বার বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ১২ বার কমানো হয়েছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও দেশের বাজারে রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
বর্তমান বাজারে স্বর্ণ ও রুপার এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তবে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে বলে দাবি করছে বাজুস।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

