মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নৈতিক ও মানবিক মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সহযোগী শক্তি হিসেবে ভবিষ্যতে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা বান্ধব এবং মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে ১৭ জুন (বুধবার) যশোরের পিটিআই মিলনায়তনে আয়োজিত “মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের ও অধ্যক্ষদের আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
মাদরাসা শিক্ষার বর্তমান অবকাঠামোগত অগ্রগতি মূলত আলেম সমাজ, স্থানীয় উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টার ফল; কেবল সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর করে এটি সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, স্থানীয় আলেম ও গভর্নিং বডির সদস্যদের নিজস্ব উদ্যোগে শিক্ষার্থীদর জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, অতিরিক্ত ক্লাস এবং আরবি-ইংরেজি ভাষা দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নকে আরও দ্রুত ও টেকসই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অধ্যক্ষদের উদ্দেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ সেশন চালুর নির্দেশনা দেন এবং প্রয়োজনে গভর্নিং বডির সদস্যদের এ ক্ষেত্রে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।
ভাইস চ্যান্সেলর আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম, আবাসিক হোস্টেল এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ও উন্নত শ্রেণিকক্ষসহ নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবন সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মটিভেট করতে সফল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আরো বলেন, পাঠ্যপুস্তক ও রেফারেন্স বইয়ের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজটমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফলাফল প্রকাশ, একাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন এবং এমফিল ও পিএইচডি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এ সুযোগ গ্রহণের জন্য গভর্নিং বডি, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সেমিনারে আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক জনাব মো. নওসের আলী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব ফাহাদ আহমদ মোমতাজী এবং যশোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব মো. মাহফুজুল হোসেন।
এছাড়া সেমিনানে আগত যশোর জেলার বিভিন্ন অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির প্রতিনিধিরা বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তারা মাদরাসা শিক্ষাকে সময়োপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও উচ্চশিক্ষা উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

